
শেষ আপডেট: 27 October 2022 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: চন্দন থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সমস্ত উপকরণ সাজানো ছিল। আচার মেনে শুধু মানুষের বদলে গাছকে (trees) ফোঁটা (bhai fota) দিলেন দুই বোন আরভি আর আরশি। বৃক্ষপ্রেমী বাবা মায়ের উদ্যোগে এই অভিনব ফোঁটার অনুষ্ঠান হল পূর্ব বর্ধমানের (East Bardhaman) মালিরবাগানে।
এই এলাকার বাসিন্দা আবু আজাদ বৃক্ষপ্রেমী। চারপাশকে সবুজ করে তুলতে প্রতি বছর গাছ বিতরণ করেন বর্ধমানের নানা এলাকায়। নিজের বাড়ির চারপাশেও লাগিয়েছেন অনেক গাছ। তাঁর দুই ছোট মেয়েই গাছকে ফোঁটা দিল আজ।
বড় মেয়ে আরভি বর্ধমান মডেল স্কুলের ক্লাস-টু এর ছাত্রী। ছোট মেয়ে আরশি এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি। স্কুলের বন্ধুদের কাছে আরভি শোনে এমন দিনে ফোঁটা দিতে হয় ভাইকে। বাড়ি এসে তাই জানতে চেয়েছিল বাবার কাছে। ভাই তো নেই, তাহলে কাকে ফোঁটা দেবে? আজাদ জানান মেয়ের প্রশ্নের কোনও উত্তর তাঁর কাছে ছিল না। তাই স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।
তাঁর কথায়, 'আমার স্ত্রীকে কথাটা বললাম। আমার স্ত্রী বললেন, আমাদের তো কোনও ফোঁটা নেই। কিন্তু শিশু মন সেটা কি বোঝে? তাদের সেটা বলা যাবে না। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, কী করা যায়। শেষে আমার স্ত্রীর মাথায় একটা সুন্দর ভাবনা এল। আমাকে বললেন, গাছের থেকে পরম আপন ভাই আর কে হবে! তাই আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে উদ্যোগ নিলাম আমার মেয়েরা তাদের গাছ ভাইকে ফোঁটা দেবে।'
তাই আজ সকাল সকাল সাজো সাজো রব আরভি আর আরশিদের ঘরে। সমস্ত উপাচার সাজিয়ে ফোঁটা দিয়ে তাঁরা পরম মমতায় আপন করে নিল সবুজ গাছেদের। ছোট্ট আরভি জানাল, এবার থেকে গাছকে ভাই হিসেবেই দেখবে। তাদের যত্ন করবে, আর প্রতিবারই ফোঁটা দেবে গাছেদের।
তাদের মা রেশমা খাতুন বলেন, 'আমাদের মুসলিম পরিবারে ফোঁটার চল নেই। কিন্তু মেয়ের আগ্রহের কাছে হার মেনেছে সব। গাছের চেয়ে আপন আর দীর্ঘদিনের সাথী আর কে হতে পারে?'
তাই গাছকেই ফোঁটা দেওয়া হল।
উৎসবে ঝলমলে মুম্বইয়ের মুখুজ্জে পরিবার, ভাইদের ফোঁটা দিলেন কাজল-তানিশা, ছিলেন মা তনুজাও