দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাইডলাইন থাকে। কিন্তু তা কতটা মানা হয়?
আজ সোমবার পুজোয় (Dur) ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও করোনাবিধি নিয়ে এই মন্তব্য করেছে আদালত। এবছরও পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। কাল, মঙ্গলবার এই মামলার ফের শুনানি। সেদিকেই তাকিয়ে উদ্যোক্তারা।
গতবছরের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে মতামত দিলেন উদ্যোক্তারা।
ত্রিধারা
সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ চক্রবর্তী জানালেন, গতবছর যা ছিল, সেটাই বহাল থাকবে বলে আশা করছেন। তাঁর আশা, আদালত কোভিড বিধি একটু শিথিল করলেও করতে পারে। এবারে তাঁদের থিম ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী’। কোভিডে প্রয়াত বিখ্যাত মানুষদের শ্রদ্ধা জানানো হবে। এবছর মণ্ডপ অনেক ছোট। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢোকার কোনও ব্যাপার নেই।
নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ
সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন দাস জানালেন, গতবছরও আদালতের রায়কে মান্যতা দিয়েই সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবছরও হবে। গতবছর শেষমুহূর্তে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল বলে সমস্যা হয়েছিল। এবছর তাঁরা আগেভাগেই প্রস্তুত। তাঁদের এবারের থিম ‘চলচিত্র’। দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢুকতে হবে না। বাইরে থেকেই ‘ড্রাইভ ইন’ দর্শন করা যাবে।
বোসপুকুর শীতলামন্দির
সাধারণ সম্পাদক কাজল সরকার জানালেন, আদালত কী রায় দেয়, তাঁরা সেদিকেই তাকিয়ে। কোভিড পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই জানা যাচ্ছে। আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই সব ব্যবস্থা করা হবে। পুজোর প্রস্তুতিও সেইভাবেই নেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকেই প্রতিমা দর্শন করা যাবে।
শিবমন্দির
সাধারণ সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানালেন, মহামারীর ওপর থিম ‘আয়ুষ্মান ভব’। প্যান্ডেল অনেক ছোট করা হচ্ছে। লকডাউন,করোনা পরিস্থিতিতেও আশার আলো তুলে ধরা হবে। মণ্ডপে মাস্ক বাধ্যতামূলক। মানুষের কাছে আবেদন, ভ্যাকসিন নিয়ে তবেই পুজোয় ঘুরতে বেরোন। এছাড়াও সরকার যা নির্দেশ দেবে তা মানা হবে।
তরুণ সঙ্ঘ
সাধারণ সম্পাদক রবীন গাঙ্গুলী জানালেন, আদালত যা নির্দেশ দেবে তা মেনেই ব্যবস্থা থাকবে। মণ্ডপে স্যানিটাইজার থাকবে। দূরত্ব বজায় রাখা হবে। রাস্তা থেকে ঠাকুর দেখে বেড়িয়ে যাওয়া যাবে। দূরে গাড়ি থামিয়েও দেখা যাবে মণ্ডপ। যাকে আমরা বলছি ‘ড্রাইভ ইন দর্শন’। যারা মাস্ক পড়ে আসবেন না, তাঁদের কমিটির তরফে মাস্ক বিলি করা হবে। তরুণ সঙ্ঘের এবছর পুজোর থিম ‘দিনযাপনের হালখাতা’।
বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ
সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ চক্রবর্তী জানালেন, গতবছরের মতো এবছরও ‘ড্রাইভ ইন দর্শন’ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। করোনা বিধি মেনে যাতে মানুষ গাড়িতে বসেই দূর থেকে মণ্ডপ দেখতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। উদ্যোক্তাদের ও পুজোর কাজকর্ম যারা করবেন, তাঁদের সবার ভ্যাকসিন নেওয়া হয়ে গেছে। আদালত যা বলবে, তা মেনেই সব ব্যবস্থা হবে।
সমাজসেবী
সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ মৈত্র জানিয়েছেন, গতবছরের গাইডলাইন মেনেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের ডবল ভ্যাকসিন হয়নি, তাঁরা দূর থেকে দর্শন করুন, এটাই আবেদন। দূর থেকে ঠাকুর দেখা যাবে। তবে গতবছর ড্রাইভ ইন দর্শনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। আদালত যা নির্দেশ দেবে, সেই মতোই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে আদালতের রায়ের জন্য গতবছরও শেষমূহুর্তে বহু বিজ্ঞাপন হাতছাড়া হয়েছে। আদালত একটু আগে এবিষয়ে ভাবনা–চিন্তা করলে সুবিধে হত। সমাজসেবীর এবারের থিম ‘অন্যকুয়াশা’।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'