
শেষ আপডেট: 16 February 2023 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল। বন্ধ করতে এমসিল আঠা দিয়ে কান সিল (Doctor poured glue) করে দেয় হাতুড়ে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের (Katwa hospital) ডাক্তারদের চেষ্টায় কোনওমতে প্রাণরক্ষা হল বর্ধমানের যুবকের।
কাটোয়া থানার কোয়ারা গ্রামে বাড়ি শ্যামল প্রামাণিকের। পেশায় তিনি গাড়িচালক। বুধবার দুপুরে স্থানীয় সিঙ্গি মোড় বাসস্ট্যান্ডে এক হাতুড়ের কাছে কান পরিষ্কার করিয়েছিলেন। অত্যাধিক খোঁচাখুঁচি করায় শ্যামলের কান থেকে রক্ত বের হতে থাকে। শ্যামলের স্ত্রী সঞ্চিতা জানান, তখন ওই হাতুড়ে রক্ত বন্ধ করতে শ্যামলের কানে 'এমসিল' আঠা ঢুকিয়ে দেন। সঞ্চিতা দেবী বলেন, “শ্যামলকে হাতুড়ে বলেছিল এই ওষুধে কান থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হবে এবং কিছুক্ষণ পর এটা নিজে থেকে খুলে যাবে।”
কিন্তু সিঙ্গি মোড় থেকে গাড়ি নিয়ে কোয়ারা গ্রামের বাড়িতে ফিরেই শ্যামল অসুস্থ হয়ে পড়েন। কানে অসহ্য যন্ত্রণা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয় তাঁর। বৃহস্পতিবার ভোর হতেই সবাই মিলে তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসুপাতালে নিয়ে যান। শ্যামল প্রামাণিককে দেখেই চিকিৎসকদের সন্দেহ হয় কিছু একটা শক্ত পদার্থ কানে ঢুকে আছে। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন সেটা শক্তিশালী আঠা। সাধারণত কলের পাইপের ফুটো বন্ধ করতে এই আঠা ব্যবহার করা হয়। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভাস্করজ্যোতি বর্মন বলেন, “শ্যামলবাবুর প্রচুর ক্ষতি হতে পারত। সময় থাকতে এসেছেন, তাই বেঁচে গেলেন। তবে কানের পর্দা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কয়েকমাস পর কানের পর্দা করা হবে।”
হাতুড়ের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। শ্যামলের স্ত্রী সঞ্চিতা জানান, তাঁর স্বামী সুস্থ হলেই ওই হাতুড়েকে খুঁজে বের করে তার ব্যবস্থা করবেন। চিকিৎসক ভাস্করজ্যোতি বর্মন বলেন, “এরকম রোগী আগে কোনওদিন পাইনি। কানেও যে এমসিল আঠা ব্যবহার করা যায় সেটা প্রথম দেখলাম।”
পৃথ্বী শ সেলফির দাবি মেটাননি, হামলার মুখে ক্রিকেটার, মুম্বইয়ে তুলকালাম