দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যারিচাঁদ মিত্রকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ছবি পোস্ট করে বসলেন দিলীপ ঘোষ। তার পরে প্রত্যাশিত ভাবেই ফের দেদার ট্রোলের মুখে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয়, নেটিজেনরা একধারসে মনে করিয়ে দেন, বিদ্যাসাগরকে সহজপাঠের লেখক বলে একবার যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি, এইবারের ঘটনাও তার চেয়ে কিছু কম হাস্যকর নয়। শেষমেশ পোস্ট ডিলিটই করে দিলেন দিলীপ ঘোষ।
আজ সকালের ফেসবুক পোস্টে দিলীপ লিখেছিলেন, 'বাংলার প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারিচাঁদ মিত্রের জন্মদিবসে সশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই।' সঙ্গে দিয়ে দেন 'ঠাকুমার ঝুলি'র স্রষ্টা দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ছবি। ব্যস, এর পরই হাসাহাসি শুরু হয়ে যায় ফেসবুকে। অনেকেই আবার কমেন্টে তাঁর ভুল শুধরে দিয়ে আসল ছবিটি দিয়ে দেন।
নেটিজেনদের অনেকেই লেখেন, 'দিলীপদার কী দরকার বাংলা সাহিত্য নিয়ে পোস্ট করার।' উল্লেখ্য, এর আগেও বিদ্যাসাগরকে সহজপাঠের লেখক বলে ট্রোলড হতে হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। সেটাই সকলে মনে করিয়ে দেন তাঁকে।
শিলিগুড়িতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিদ্যাসাগরকে নিয়ে আলটপকা মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বৈঠকে তিনি বলে বসেন, বিদ্যাসাগর নাকি তাঁর লেখা সহজপাঠের জন্য বিখ্যাত। এবং ছোট থেকে তা পড়েছেনও তিনি। বলেন, ‘যার জন্য বিখ্যাত বিদ্যাসাগর, সেটা সহজপাঠ। যেটা আমরা ছোটবেলায় পড়েছি। সিপিএম তুলে দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল কি সেটা চালু করেছে? বিদ্যাসাগরের প্রতি সম্মান থাকলে তারা সহজপাঠ কোর্সে রাখত।'
ফের একবার সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে ভুল পোস্ট করে বসলেন দিলীপ। যা তাঁকে ডিলিট করতে হল বাধ্য হয়ে।
প্রসঙ্গত, বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারিচাঁদ মিত্রের জন্মবার্ষিকী আজ। সাহিত্য জগতে তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে পরিচিত ছিলন। তাঁর একটি বিখ্যাত উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল।' তৎকালীন ভারতবর্ষের কলকাতা শহরে ১৮১৪ সালের আজকের দিনে, অর্থাৎ ২২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন প্যারিচাঁদ মিত্র।
অন্যদিকে বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। মূলত ‘ঠাকুমার ঝুলি’র জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে পরিচিত তিনি। এই দু'জনকে গুলিয়ে ফেলে ট্রোলের মুখে পোস্ট ডিলিট করলেন দিলীপ।