দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামীর জন্য গর্ব হয়, কিন্তু সংসারটা তো ভেসে গেল, এখন কে দেখবে আমাদের...এতদিনের নীরবতা কাটিয়ে সামনে সামনে এলেন দিল্লি হিংসায় শহিদ পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লালের স্ত্রী। দয়ালপুর থানার নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার রোষের মুখে পড়েছিলেন রতন লাল। পাথর ছুড়ে তাঁকে ঘায়েল করে, তারপরেও গুলি চালিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলেছিল পরপর গুলিতে এঁফোড় ওঁফোড় হয়ে যায় রতন লালের শরীর।
চাঁদবাগ এলাকায় তাণ্ডব যেদিন চরমে ওঠে, ডিসিপি অমিত শর্মার সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন রতন লাল। তাঁর স্ত্রীর দাবি, ওই দিন ডিসিপি যে পুলিশ বাহিনী নিয়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়েছিলেন, সেই দলেই ছিলেন তাঁর স্বামী। বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডিসিপিকে ঘিরে ধরে পাথর ছুড়তে থাকে। তাঁকে বাঁচাতেই ঝাঁপিয়ে পড়েন হেড কনস্টেবল রতন। পাথর লেগে মাথা ফাটে তাঁরও। “ডিসিপি অমিত শর্মা ও গোকুলপুরীর এসিপি অনুজ শর্মাকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী। বিক্ষোভকারীদের সব রোষ তাঁর উপরেই গিয়ে পড়ে। পাথর মেরে, গুলি করে খুন করা হয়েছে তাঁকে, এর বিচার কে করবে?”তিন সন্তানকে নিয়ে হাহাকার শহিদের স্ত্রীর।
জাফরাবাদ-মৌজপুরের মতো চাঁদবাগও হিংসায় রক্তাক্ত। সম্প্রতি চাঁদবাগে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা গেছে কয়েকশো হামলাকারী লাঠি, পাথর নিয়ে ছুটে যাচ্ছে পুলিশকে লক্ষ্য করে। হামলাকারীদের তাণ্ডবে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশও। চলছে এলোপাথাড়ি গুলি। শহিদের স্ত্রী বলেছেন, সেদিন ওই এলাকাতেই ছিলেন তাঁর স্বামী। আর ওই হামলাকারীরাই নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাঁকে।

গোকুলপুরীর এসিপি অনুজ শর্মা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের পাথরের আঘাতে গুরুতর জখম ডিসিপি অমিত শর্মা। তাঁরও মাথা ফাটে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
“গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়েছিল, যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সব শেষ”, বলেছেন শহিদ রতন লালের স্ত্রী। দিলশাদ গার্ডেনের গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে রতন লালের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, গুলি রতন লালের বাঁ কাঁধ দিয়ে ঢুকে ডান কাঁধ ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্নও ছিল। পাথর মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর।
রাজস্থানের সিকার জেলার ফতেপুর তিথওয়ালি গ্রামে বাড়ি রতন লালের। ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লি পুলিশে চাকরি পান। ২০০৪ সালে পুনমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দিল্লির অমৃত বিহার কলোনিতেই বর্তমান ঠিকানা ছিল তাঁর। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, নিতান্তই ভাল মানুষ ছিলেন রতন। কখনও নাকি উঁচু গলায় কথা বলতেন না। রুক্ষ মেজাজও ছিল না। যেমন ভদ্র, তেমনি বিনয়ী । সকলের সঙ্গে তাঁর ভাল সম্পর্ক ছিল। কখনও তাঁকে রাগতে বা কটূ কথা বলতে শোনা যায়নি। তাঁর তিন সন্তান, ছোট ছেলে রামের বয়স আট বছর। দুই মেয়ে সিদ্ধি (১৩) ও কনক (১০)। শহিদ কনস্টেবলের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
“বীরের সম্মান পাবে স্বামী, আমি গর্বিত। কিন্তু ওকে তো আর ফিরে পাব না। আমার সংসারটা শেষ হয়ে গেল,”অপরাধীদের কঠিন শাস্তির পথ চেয়ে শহিদ রতন লালের স্ত্রী।