
শেষ আপডেট: 18 July 2023 09:27
দ্য ওয়ল ব্যুরো: বিস্ফোরক ভর্তি খাবার খাওয়ার পর কেরলে একটি গর্ভবতী হাতির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ! এবার এ বঙ্গেও এক গর্ভবতী হাতির মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
ঝাড়গ্রামে উন্মত্ত একটি হাতিকে ঘুম পাড়ানি গুলি ছুড়ে অচেতন করার সময় হাতিটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যার জেরে মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বন দফতরের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করল প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন মামলার শুনানিতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্মত্ত ওই হাতিটিকে প্রথমে পুরুষ দাঁতাল ভাবা হয়েছিল। কিন্তু আদৌ তা নয়। সেটি ছিল মেয়ে হাতি। এখানেই শেষ নয় হাতিটি গর্ভবতী ছিল বলেও এদিন হাইকোর্টে জানিয়েছেন বনকর্তা দেবল রায়। তিনি আরো বলেছেন, হাতিটি দলছুট ছিল। সেটির উন্মত্ত আচরণ এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে সেটি কে পুরুষ হাতিই মনে করা হয়েছিল। যেহেতু হাতিটির আক্রমণে ইতিমধ্যেই পাঁচ থেকে ছয়জনের প্রাণ গিয়েছিল, তাই তাকে অচেতন করে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি বনকর্তা আরও জানিয়েছেন, হাতিটিকে সচেতন করতে এক নয়. দুবার গুলি ছোড়া হয়েছিল।
মামলাকারীর পাল্টা অভিযোগ, হাতিকে অচেতন করার পর যে পদ্ধতিতে সেটিকে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা সেই পদ্ধতি মানা হয়নি। সরাসরি পেট বরাবর মোটা ফিতে পেঁচিয়ে সেটিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আর সে কারণেই হাতিটির দমবন্ধ অবস্থায় মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। উভয়পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার গোটা ঘটনায় বন দফতরের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ৭ আগস্ট ফের মামলার শুনানি।
চলতি মাসের শুরুতে ঝাড়গ্রামের বিড়িহাণ্ডি বিটের কাজলার জঙ্গলে উন্মত্ত ওই হাতিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়েন বন দফতরের কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন হাতি বিশেষজ্ঞেরাও। হাতিটি জ্ঞান হারালে তাকে নিয়ম মেনে চোখ বেঁধে গাড়িতে তোলা হয়। বন দফতরের তরফে তখন জানানো হয়, হাতিটিকে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার পর সে মারা যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২০ জুন লালগড়ে বুড়াবাবা থানে কর্তব্যরত এক হোমগার্ড এই হাতির হানায় মারা যান। ২২ জুন পশ্চিম মেদিনীপুরের চাঁদড়ায় এক জন এবং ২৯ জুন ঝাড়গ্রামের বিড়িহান্ডি বিটের কাজলাতেও এক জনের মৃত্যু হয়। বন দফতরের দাবি, সব ক্ষেত্রেই ঘাতক এই মৃত হাতিটি। জুন মাসের শুরুতে ঝাড়খণ্ড থেকে ওই হাতিটি ঢুকে পড়েছিল ঝাড়গ্রামে। পড়শি রাজ্যেও পাঁচ-ছ’জনকে মেরেছিল হাতিটি। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও চার জনের মৃত্যু হয় হাতিটির হানায়।
আরও পড়ুন: প্রকাশ করতে হবে ওএমআর সিট, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিমকোর্ট