
শেষ আপডেট: 21 October 2022 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে (Dakshineswar Temple) বহু ভক্ত মায়ের জন্য বেনারসী শাড়ি (Saree for Maa Kali) উৎসর্গ করেন। দেশবিদেশ থেকে আসে সেই উপহার। এক এক করে সেই শাড়ি চাপানো হয় মা ভবতারিণীর গায়ে। কিন্তু রোজ এত এত উপহারের মাঝে মা-ই বা আর কত শাড়ি পরবেন! তাই দেখা যাচ্ছে, এখন, অর্থাৎ চলতি বছরের অক্টোবর মাসে মায়ের অঙ্গে উঠছে যে বেনারসীগুলি, সেগুলি মায়ের পায়ে নিবেদিত হয়েছিল সেই ২০০৯-১০ সালে।

এই করে করেই দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে কার্যত পাহাড় জমে গেছে বেনারসী শাড়ির। কারণ প্রতিদিনই বহু ভক্ত বেনারসী শাড়ি দেন মন্দিরে। তাঁদের দেওয়া শাড়ি যেন একটিবার পরেন মা, এটাই তাঁদের আশা। তেমনটাই হয়, উপহারের সেই শাড়িই নিত্য পরিধান করেন দেবী। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, নির্দিষ্ট কোনও ভক্তের নির্দিষ্ট সেই শাড়ি কবে পরবেন তিনি, কবে চিঠি দিয়ে বা ফোন করে, বা মেসেজ পাঠিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাবেন, অমুক তারিখ মা পরবেন সেই নিবেদিত শাড়িটি!

উত্তর খুব সহজ, কমপক্ষে ১২-১৩ বছর অপেক্ষা করতেই হবে! অন্তত সাম্প্রতিক শাড়ির হিসেব তাই বলছে। অর্থাৎ আজ যদি কেউ মায়ের জন্য শাড়ি নিবেদন করেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে, তাহলে অন্তত ২০৩৪ সালের আগে কোনও ভাবেই ভক্তের দেওয়া বেনারসী উঠবে না মা ভবতারিণীর অঙ্গে।

রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত এই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ভবতারিণী মাকে শাড়ি নিবেদন করার রীতি বহু পুরনো। শোনা যায়, মায়ের কাছে করা কোনও মনোস্কামনা পূরণ হলে ভক্তরা শাড়ি দিতে শুরু করেন। অনেকে আবার শাড়ি দেন, কোনও মনোস্কামনা করার সময়ে। সেই শাড়ি যেদিন মায়ের অঙ্গে ওঠে, সেই দিনটি বড় পুণ্য ও আনন্দের হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে তাঁর গোটা পরিবারের কাছে। নির্দিষ্ট সেই দিনে ওই ভক্তকে সপরিবারে আমন্ত্রণও জানানো হয় মন্দিরে।

এর পরে মায়ের পরনের সেই শাড়ি সযত্নে রেখে দেওয়া হয়। আর্থিকভাবে দুর্বল কোনও দুঃস্থ পরিবার তাঁদের মেয়ের বিয়ের সময় আবেদন করলে, সেই বেনারসী দেওয়া হয় তাঁদের। এই রীতিই চলে আসছে বহু বছর ধরে। কিন্তু উপহারের সংখ্যা এতই বেশি, যে সব শাড়ি পরেই উঠতে পারছেন না মা। ফলে তা জমেই থাকছে বছরের পর বছর।
নলহাটির গুহ্যকালী মন্দিরে বসল সিসিটিভি, কষ্টিপাথরের মূর্তির ইতিহাস শুনলে চমকে যেতে হয়