
শেষ আপডেট: 17 June 2021 19:10
ফেসবুক ছেয়ে গিয়েছে পোস্টে। কেন এখনও কোনও নেতা ভাঙড়ে পৌঁছতে পারছেন না? কী করছেন সূর্য মিশ্র, বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমরা?
সিপিএমের সক্রিয় কর্মীরা গুগলে সার্চ করে দেখছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সড়ক পথে ভাঙড়ের দূরত্ব কত? সেই কিলোমিটার পোস্ট করে পরোক্ষে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন সাধারণ কর্মীরা।
সিপিএমকে কটাক্ষ করতে বিরোধীরা অনেক সময়েই বিদ্রুপ করে বলে, ওরা নিকারাগুয়াকে নন্দীগ্রামের চেয়ে কাছের মনে করে, কলকাতার আগে ভাবে কিউবার কথা! এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ লিখেছেন, ভিয়েতনাম নিয়ে যাঁদের হৃদয় কাঁপে ভাঙড় নিয়ে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ততা কোথায়? নেতারা কি নিরুদ্দেশ?
ভোটের বিপর্যয়ের জেরে মোর্চা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, এসব লোক দেখানো মোর্চা। বাংলার মানুষ ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। সেই 'বাবল' মোর্চার আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেদিনই অধীর চৌধুরী-আব্বাস সিদ্দিকি সংঘাত দেখেছিল ব্রিগেডের মহামঞ্চ। পর্যবেক্ষকদের মতে, শুরুতেই তাল কেটেছিল মোর্চার। তারপর ফুরফুরার পীরজাদাকে নিয়ে কংগ্রেসের অসন্তোষ, ধর্মগুরু থেকে ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে বস্তুবাদী সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমের মাখামাখি নিয়ে কম চর্চা হয়নি।
ভাঙড়ে সিপিএম নেতাদের না পৌঁছনো নিয়ে অনেক নেতাই মুখ খুলতে চাননি। তবে কর্মীদের ক্ষোভ নিয়ে কিছু না বললেও সিপিএমের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সম্পাদক তথা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শমীক লাহিড়ী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনকে সমস্তটা জানানো হয়েছে। আমরা বসে নেই। সমস্ত রকম চেষ্টা চলছে।’ শমীকের অভিযোগ ভাঙড়ে নির্মম সন্ত্রাস চলছে। সবটাই জানেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যদিও বুধবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ত্রাসের কোনও কথা বলেননি। বরং রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন প্রবীণ এই কমিউনিস্ট নেতা। যাতে অনেকেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে কালীঘাটের সুর শুনতে পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভাঙড় নিয়ে সোশ্যাল ওয়ালে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের দাবানল।