
শেষ আপডেট: 24 August 2018 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন উলটপুরান। বিজেপি আর সিপিএম জোট করে হারিয়ে দিল শাসক দল তৃণমূলকে। এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর ১ নম্বর ব্লকে।
তালগাছাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত গঠনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ধুন্ধুমার বেঁধে যায় পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন এলাকায়। এই পঞ্চায়েতের মোট আসন ১৩। নির্বাচনে তৃণমূল জেতে ৬ টিতে, বিজেপি এবং সিপিএম পায় ৩টি করে আসন। আর একটি আসন পায় নির্দল। ফলে সম্মিলিত বিরোধীদের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৭টি। যা ১৩ আসনের জিপি’তে ম্যাজিক ফিগার। এই অঙ্ককে কাজে লাগিয়েই কাস্তে-পদ্ম জোট করে হারিয়ে দিল জোড়া ফুলকে।
শুক্রবার সকালে লাল এবং গেরুয়াবাহিনীর কর্মীরা পঞ্চায়েত অফিসের সামনে গেলেই উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত অফিসের অদূরেই শাসক দল তাঁদের উপর হামলা চালায়। এ দিন পঞ্চায়েত অফিসের সামনে মোতায়েন ছিল তিনটি থানার পুলিশ। রামনগর, দিঘা এবং দিঘা কোস্টাল এই তিন থানার পুলিশ ছাড়াও ছিল র্যাফ। দু’পক্ষের ধস্তাধস্তি শুরু হতেই ময়দানে নামে পুলিশ। এরপর জয়ীদের পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকিয়ে জমায়েত ফাঁকা করে দেয় পুলিশ। আর ভিতরের ভোটাভুটিতে প্রধান এবং উপ প্রধান পদে জিতে যান নির্দল এবং সিপিএমের জয়ী সদস্য। প্রধান হন তৃপ্তি বারিক (নির্দল) এবং উপ প্রধান হন রাজকুমার দাস (সিপিএম)।
কিন্তু এ কী হলো মার্ক্সবাদের তত্ত্ব আওড়ানো কমিউনিস্ট পার্টির? সাম্প্রদায়িকতার ধুয়ো তুলে যে বিজেপি’র বিরুদ্ধে সমালোচনা না করে জলস্পর্শ করেন না আলিমুদ্দিনের নেতারা তাঁদের দলই কি না বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিল দলের দলিলকে! এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবার অন্য যুক্তি দেন। তাঁর কথায়, “আমরা বিজেপি-কে সমর্থন করিনি। বিজেপি আমাদের সমর্থন করেছে। আমরা নাম প্রস্তাব করেছিলাম। তাতে বিজেপি সমর্থন করেছে।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনীতির ‘র’ না বোঝা দুধের শিশুও জানে ভোটে সমর্থন নেওয়া আর সমর্থন করার মধ্যে আসলে কোনও পার্থক্য নেই। নিরঞ্জন সিহির দাবি তাঁদের সঙ্গে বিজেপি’র কোনও লিখিত জোট হয়নি। কয়েক মাস আগেই জেল থেকে ফেরা একদা সিপিএমের এই দাপুটে নেতাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, এ দিন তো সকালে বাম এবং বিজেপি কর্মীদের একসঙ্গে মিছিল করতে দেখা গিয়েছে। তখন তাঁর উত্তর, “তলায় তলায় কী হয়েছে সেটা বলতে পারব না। তবে আমাদের সঙ্গে বিজেপি’র কোনও জোট নেই।”
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুনপ্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়তেই একাধিক জেলায় বিজেপি-সিপিএমের জোটের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। এই নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল সিপিএম রাজ্য কমিটির সভাও। জেলায় জেলায় রিপোর্টও তলব করেছিল আলিমুদ্দিন। কিন্তু কোনও জেলাই সেই রিপোর্ট পাঠায়নি বলে সিপিএম সূত্রের খবর। এ বার বোর্ড গঠনেও সামনে এল বাম-রাম জোটের ছবি।
https://www.youtube.com/watch?v=-GpM5gEmQKg