দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনার খুব একটা ভাল নাও হতে পারে। মানুষের শরীরে তার প্রভাব কেমন পড়বে সেটা নিশ্চিত না হয়েই টিকা নিয়ে এলে প্রাণের ঝুঁকিও থাকতে পারে। সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।
ব্রিটেন ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থার ভিত্তিতে করোনার টিকা নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেছে। একই পথে হাঁটছে চিনও। সম্প্রতি মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (এফডিএ) ঘোষণা করেছে, করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার ইঞ্জেকশন দিতে পারে আমেরিকাও। মার্কিন সরকারেরও সায় আছে এই প্রস্তাবে।
এফডিএ-র ঘোষণার পরেই হু-র অন্যতম মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেছেন, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের আগেই যদি টিকা দেওয়া শুরু হয়ে যায়, তাহলে তার ‘অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস’ হতে পারে মানুষের শরীরে। টিকা কতটা নিরাপদ ও কার্যকরী সেটা জানার জন্য ল্যাবরেটরিতে সেফটি ট্রায়ালের পরে তিন স্তরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ করতে হয়। এই তিন স্তরের প্রথম থেকে শেষ অবধি ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ও টিকার ডোজও বাড়ানো হয়।
হু-র বিজ্ঞানী বলেছেন, প্রথম দুই পর্বে দেখা হয় টিকার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা বা হলেও তা কতদিন স্থায়ী হচ্ছে। এই দুই পর্বের শেষ থেকেই রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ নির্ণয় করার কাজও শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্বে কয়েক হাজার জনকে টিকা দিয়ে সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্বে প্রবীণ ও শিশুদেরও টিকা দিয়ে দেখা হয় সার্বিকভাবে এর প্রয়োগের ফল কেমন। এই পর্বে অনেক সময় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদেরও টিকার ডোজ দিয়ে তার প্রভাব দেখা হয়। সবদিক দিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলে তবেই টিকার প্রয়োগের জন্য সবুজ সঙ্কেত দেয় ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি। স্বামীনাথন বলছেন, এতগুলো স্তর পার করার আগেই টিকা আনতে চাইছে অনেক দেশই। সংশ্লিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলিও তাতে সায় দিচ্ছে। যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার পরবর্তী ফলাফলের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
গতকাল একটি সংবাদিক বৈঠকে স্বামীনাথন বলেন, তৃতীয় পর্বের ট্রায়ালের আগে জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে এলে তার দু’রকম প্রভাব দেখা যেতে পারে। প্রথমত, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিন্তার কারণ। তাছাড়া, টিকা একবার চলে এলে চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল মাঝপথেই থেমে যাবে, ফলে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে এর প্রভাব কেমন হচ্ছে সেটা আর পর্যবেক্ষণে রাখা যাবে না। দ্বিতীয়ত, সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই টিকা দিলে দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হবে না। কারণ কোন বয়সের মানুষের শরীরে টিকার ডোজ কেমন হবে সেটা সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয় চূড়ান্ত ট্রায়ালের পরেই।
জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনার জন্য ভ্যাকসিনের নীতিতে বদল করা হতে পারে বলেই জানিয়েছিল ব্রিটেনের বরিস জনসন সরকার। ব্রিটেনের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি জানিয়েছে, যে টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট সবচেয়ে ভাল এবং মানুষের শরীরে সুরক্ষিত প্রমাণিত হয়েছে, সেই টিকাই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগ করা হতে পারে। সব ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকেই টিকার প্রয়োগ শুরু হয়ে যেতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনার কথা ঘোষণা করেছে চিনও। সিনোভ্যাকের করোনাভ্যাক টিকার প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বেজিং। অন্যদিকে, ক্যানসিনো বায়োফার্মার টিকাকেও পেটেন্ট দিয়েছে চিন সরকার।