দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন মাস কেটে গেলেও খোঁজ মিলল না উলুবেড়িয়ার হাট কালিগঞ্জের বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র সাহার। হাওড়ার বালিটিকুরি ইএসআই হাসপাতাল থেকে বেমালুম উধাও হয়ে যান তিনি! কোভিড নিয়ে ভর্তি ছিলেন তিনি। এখন কেমন আছেন, কোথায় আছেন, জানে না পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশও বলতে পারেনি কিছুই।
নারায়ণবাবুর পরিবার সূত্রের খবর, গত ২৯ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট নিয়ে উলুবেড়িয়ার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছিলেন নারায়ণ চন্দ্র সাহা। করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাঁর। এর পরে ১ মে তাঁকে হাওড়া বালিটিকুরি ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, ৩ মে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের লোকজনকে জানান, রোগীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না! তারপর থেকেই পরিবারের লোকজন হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। তিন মাস কেটে গেলেও খোঁজ মেলেনি নারায়ণবাবুর।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মে মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় নারায়ণবাবুকে বালিটিকুরি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করার পরে সেখান থেকে তাঁদের রোগীর ওয়ার্ড নম্বর ও বেড নম্বর দেওয়া হয়েছিল। ২ মে তাঁরা হাসপাতালে যোগাযোগ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ওই নম্বরের বেডে ওই নামের কোনও রোগী নেই!
অভিযোগ, পরের দিন ৩ তারিখ হাসপাতালে গেলে জানানো হয় ওই বেড নম্বরে ওই নামে কোনও রোগী কখনওই ভর্তি হননি। অন্য যে রোগী ছিলেন, তিনি চলে গিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে রোগী চলে গেলেন, কোথায় গেলেন, কেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হল সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এমনটাই দাবি করেছে পরিবার।
এর পরে বাঁকড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে গিয়ে রোগীর পরিবার জানতে পারেন, এর আগেও এই ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ নাকি জমা পড়েছে সেখানে। ওইদিনই অর্থাই ৩ তারিখই বাঁকসাড়ার এক রোগীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে একদিন পরে সেই নিখোঁজ রোগীর সন্ধান মেলে হাসপাতালের ভিতরেই। অভিযোগ, বারবার রোগী নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে হাওড়ার বালিটিকুরি কোভিড হাসপাতালে।
নারায়ণবাবু সম্পর্কেও এর পর আর কোনও হদিশ দিতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশও কোনও খোঁজ পায়নি। পরিবারের লোকজন উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন, নারায়ণবাবুর কোভিড আদৌ সেরেছিল তো! তিনি কেমন আছেন, কোথায় রয়েছেন!