
শেষ আপডেট: 25 June 2020 18:30
ডক্টর অঙ্কিতা প্রামাণিক[/caption]
আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডক্টর অঙ্কিতার টিম তৈরি করেছে এমন একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন যার দ্বারা কোভিড টেস্টিং পদ্ধতি হবে অনেকটাই সহজ। সেটা কেমন? অধ্যাপক বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে একটা অ্যালগোরিদম তৈরি হয়েছে। এই অ্যালগোরিদম কম্পিউটারে ইনস্টল করা যায়। এর কাজ হল চেস্ট এক্স-রে দেখে কোভিড সংক্রমণ রয়েছে কিনা সেটা ধরে দেওয়া। অঙ্কিতাদেবী বলেছেন, এক্স-রে সাদা-কালো প্লেট নয়, ডিজিটাল এক্স রে ইমেজ কম্পিউটারে আপলোড করেই কাজ হবে। করোনা
[caption id="attachment_233550" align="alignleft" width="189"]
জ্যোতিষ্ক দাস[/caption]
সংক্রমণ রয়েছে কিনা জানতে আগে রোগীর ডিজিটাল এক্স-রে করানো হবে। সেই ইমেজ এই অ্যালগোরিদমে ফেললেই এক সেকেন্ডের মধ্যে কম্পিউটার বলে দেবে রিপোর্টে সংক্রমণ ধরা পড়েছে কি না। অর্থাৎ রোগী কোভিড পজিটিভ না কোভিড নেগেটিভ। সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে বা ফুসফুসের অবস্থা কেমন, সেটা জানতে হলে প্রযুক্তিতে আরও বদল আনতে হবে। এখনও সেই পর্যায়ে গবেষণা পৌঁছয়নি বলেই জানিয়েছেন অধ্যাপক। এই অ্যালগোরিদমের বিষয়ে এখনই সবিস্তারে জানাতে চাননি তিনি। ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সাফল্য এলেই এই বিষয়ে বিশদে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ডক্টর অঙ্কিতা।
এই রিসার্চ টিমের সদস্য জ্যোতিষ্ক বলেছেন, “এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ হচ্ছিল। এক্স-রে প্লেট দেখে আমাদের টিমের ডিজাইন করা এই অ্যালগোরিদম কোভিড সংক্রমণ পরীক্ষা করতে পারবে। কাজ হবে সেকেন্ডের মধ্যে।“ জ্যোতিষ্কর কথায়, এখনও অবধি যতটা পরীক্ষা হয়েছে তাতে অনেকটাই সাফল্য এসেছে, তবে আরও বেশি ক্লিনিকাল টেস্ট করার পরেই বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। একই কথা বলেছেন এই টিমের আরও এক সদস্য শুভদীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, এটা এমন এক সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন যাতে কোভিড সংক্রমণ ধরা যাবে কম সময়ে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা যাবে যা ডাক্তারদের বিশেষভাবে সাহায্য করবে।
শুভদীপ ঘোষ[/caption]
ডক্টর অঙ্কিতার কথায়, “প্র্যাকটিকাল ক্লিনিকাল ডায়াগোনসিস এখনও করা হয়নি। ওয়ার্ল্ড ডেটা বা বিশ্বে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চেস্ট এক্স রে ইমেজ এই অ্যালগোরিদমে বিশ্লেষণ করে নির্ভুল ডেটা পাওয়া গেছে। তবে বাস্তবে এক্স-রে রিপোর্টের ফল কেমন আসে সেটাই এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করছি, কোভিড টেস্টিং পদ্ধতিতে এই অ্যালগোরিদম ভালভাবেই কাজ করতে পারবে।”
এই টেস্টিং পদ্ধতি কতটা সঠিক ডেটা দেবে? ডক্টর অঙ্কিতা বলেছেন, এখনও সেটা জোর দিয়ে বলা যাবে না। কারণ গোটা ব্যাপারটাই গবেষণার স্তরে রয়েছে। তাঁর মতে, রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) টেস্টে কোভিড সংক্রমণ নির্ভুলভাবে ধরা যায়। শুধু সময় লাগে অনেক বেশি। কম করেও ৪-৫ ঘণ্টা বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি। আরটি-পিসিআরে আরএনএ ভাইরাসকে চিহ্নিত করা যায়। সেক্ষেত্রে রোগীর থেকে নেওয়া নমুনা আরটি-পিসিআর মেশিনে ফেলে তার স্ক্রিনিং করে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে নমুনার দরকার হচ্ছে না। চেস্ট এক্স-রে ইমেজ কম্পিউটারে আপলোড করে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের টেকনোলজি ব্যবহার করে সংক্রমণ চিহ্নিত করা হচ্ছে। ফুসফুসে যদি সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ থাকে তাহলে ডিজিটাল এক্স-রে রিপোর্টে সংক্রামিত ফুসফুসের কোষের ছবি উঠবে। সেটাই টেকনিক্যালি অর্থাৎ কম্পিউটারের সাহায্যে নির্ধারণ করা হবে। কম সময়ে নির্ভুল পরীক্ষার জন্যই এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। অধ্যাপকের বক্তব্য, “করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর টেস্ট, অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট, সব পদ্ধতিই ভাল কাজ করছে। এই ওয়েব অ্যালগোরিদমের ক্লিনিকাল ট্রায়াল সফল হলে কোভিড টেস্টিংয়ে আরও একটা নতুন দিক খুলে যাবে।”