
শেষ আপডেট: 13 June 2023 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: একটা ছোট্ট, কিন্তু পাকা বাড়ি হবে। এটাই ছিল ছোট্টু সর্দারের স্বপ্ন। তাই বাবার সঙ্গে রওনা হয়েছিল কেরালায়। শ্রমিকের কাজ করতে। কিন্তু গ্রামে ফিরে পাকা বাড়ি করার আশা পূর্ণ হল না ছোট্টু সর্দারের। বাবা প্রাণে বাঁচলেও করমণ্ডলের দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়ল বছর আঠেরোর যুবকের।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে ফোন করে ছেলের মৃত্যুর খবর জানান বাবা সুকলাল সর্দার। কান্নার রোল ওঠে পরিবারে। সুকলাল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে কেরালায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের একটু বেশি উপার্জনের আশায় এইবার প্রথম ছেলে ছোট্টুকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। ছোট্টুও চেয়েছিল বাবার ভার কিছুটা হলেও লাঘব করতে। সেও যদি কাজ করে তবে নিজেদের থাকার জন্য একটা পাকা বাড়ি তাড়াতাড়ি তৈরি করা যাবে।
কাটোয়ার করুই গ্রাম থেকে দশ-বারোজনের একটি দল রাজমিস্ত্রির কাজ করতে করমণ্ডল এক্সপ্রেস ধরে কেরালার দিকে রওনা দিয়েছিল। শুক্রবার বেলা তিনটের সময় শালিমার স্টেশন থেকে করমণ্ডল এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন ওই শ্রমিকরা। সুকলাল সর্দার ও তাঁর ছেলে ছোট্টুর সঙ্গেই ট্রেনে উঠেছিলেন গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় সর্দার, সৃষ্টি রায়, সমীর রায়। সুকলাল ও সমীর গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে সঞ্জয় সর্দার ও সৃষ্টি রায়ের এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর আসতেই গোটা গ্রামে কান্না আর হাহাকার। উদ্বিগ্ন পরিজনরা খোঁজ চালাচ্ছেন তাঁদের নিখোঁজ স্বজনদের। বাড়ির স্বপ্ন দেখা ছোট্টু আর কখনও বাড়িতেই ফিরবে না মানতেই পারছেন না গ্রামের মানুষ।
ঘরে ফেরা হল না বাসন্তীর একই পরিবারের তিনজনের, করমণ্ডলে যাচ্ছিলেন তামিলনাড়ু