
শেষ আপডেট: 1 October 2021 08:20
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আসানসোলের বৃষ্টি সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। ঝাড়খন্ডে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। তাই ওরা পরশু রাত তিনটেয় আমাদের না বলেই জল ছেড়ে দেয়। সাধারণ মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় মরে যাবে তো! আগে আমাদের বললে আমরা লোকজনকে সরাতে পারি। ওদের জলে আসানসোল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ভেসে যায়। এর পরে কাল আবার এক লক্ষ কিউসেকের ওপর জল ছেড়েছে। সমস্যা হল, ঝাড়খন্ড-বিহারের বৃষ্টির চাপটাও আমাদের ওপর এসে পড়ছে। ওরা যদি ওদের চ্যানেলগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে, তাহলে অনেক জল পাস করতে পারে। মাইথন ড্যাম যেমন আরও জল ধরতে পারে। কিন্তু ওরা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কোনও পরিষ্কার করে না। ড্রেজিং করে না। সেই খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে. এটা অন্যায়। আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি।"
https://www.youtube.com/watch?v=BgvG18rkQfI
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "বৃষ্টির জন্য যদি বন্যা হতো, আমি বুঝতাম। আকাশ তো আমার হাতে নেই, আমি বিপর্যয় মেনে নিতাম। কিন্তু এই বন্যা তো আসলে হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের জল ছাড়ার জন্য। ম্যানমেড ফ্লাড। বিশেষ করে বাঁকুড়া পুরো ডুবে গেছে, পুরুলিয়ারও অনেকটা জলের তলায়। আসানসোলে জল জমে গেছিল, এখন কমেছে। বর্ধমান পূর্ব ভাসছে। বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আসানসোল, হাওড়া, হুগলি-- সব ভাসছে। ঝাড়খণ্ড আমাদের যা পরিস্থিতি করে দিয়েছে, ওদের বলব, তোমরা ড্রেজিং করো। নইলে বাংলা প্রতিবার এটা সামলাতে পারবে না। বাংলার বঞ্চনা ঠিক নয়। আগামীকাল আমি কিছু এলাকা নিজের চোখে ঘুরে দেখব।"
মমতা জানান, পরশু ঝাড়খণ্ড জল ছাড়ার পর থেকেই সরকার সজাগ রয়েছে। সব জেলা থেকে সময়ান্তরে রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে সরানো হচ্ছে নিরাপদ জায়গায়, চালু হয়েছে ত্রাণ শিবির। প্রশাসন খুব ভাল কাজ করছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
https://www.youtube.com/watch?v=D5OqXsJeCpU
সেই সঙ্গে মমতা জানান, জেলাভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রীদের। তাঁর কথায়, "পুলিশ এবং রাজ্যের মন্ত্রীদেরও বন্যা মোকাবিলার কাজে লাগাতে চাই। সোম-মঙ্গল-বুধ অভিজ্ঞ মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জী বাঁকুড়ায় থাকবেন। আজ, কাল মলয় ঘটক আসানসোল, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া দেখবেন। কল্যাণ ব্যাার্জীও বাঁকুড়া যাবেন। হুগলি দেখবেন বেচারাম মান্না, দিলীপ যাদব, তপন দাশগুপ্তরা। ফিরহাদ হাকিম চার্জে থাকবেন। বর্ধমান পূর্বে স্বপন দেবনাথ ও অরূপ বিশ্বাস দায়িত্বে থাকবেন। এইভাবে আমরা সাজিয়ে নিয়েছি।"
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মানুষের কষ্ট হচ্ছে। আমাদেরও যা টাকাপয়সা সব জলেই চলে যাচ্ছে। বছরে যদি পাঁচবার করে ফণী, বুলবুল, যশ থেকে শুরু করে এত বৃষ্টি হতে থাকে, তাহলে আমরা কী করব! এর পরে আবার মহালয়া আসছে ৬ তারিখে। মহালয়ায় একটা ভরা কোটাল হয়। সেই নিয়ে আমরা চিন্তিত আছি। ডিভিসি যে জল ছাড়ছে, তা আসতে দু'দুদিন সময় লাগে। জল ওরা ছেড়ে দিয়েছে অলরেডি। তাই আরও বন্যা হতে পারে।"