দ্য.ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় কতজন করোনা আক্রান্ত, কতজনেরই বা মৃত্যু হয়েছে এ ব্যাপারে সরকার যতক্ষণ না কোনও তথ্য নিশ্চিত করছে ততক্ষণ সংবাদমাধ্যমে লেখা বা দেখানো বন্ধ করার অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কেউ কেউ দেখিয়ে দিচ্ছেন এতজন মারা গেছে, অত জন মারা গেছে, প্লিজ এটা করবেন না।" মৃত ও আক্রান্তের তথ্যও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মমতা বলেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে ৩৭ জনের। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই তিনজনের মধ্যে আবার একজনের কিডনি ও একজনের অন্য ক্রনিক সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাকি ৩৪ জনের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গতকালই বাংলার প্রথম তিন করোনা আক্রান্ত আমলা-পুত্র, বালিগঞ্জের তরুণ এবং হাবড়ার তরুণীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল থেকে। বাকি ৩১ জনের চিকিৎসা চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিকেল চারটে পর্যন্ত এটাই সরকারি হিসাব বলে জানান মমতা।
সংবাদমাধ্যমের একাংশের উপর ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "কেউ কেউ আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্যানিক তৈরি করে দিচ্ছে। দুমদাম ব্রেকিং নিউজের নামে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে প্রচার করে দিচ্ছে। এটা করবেন না। সারা বছর ঝগড়া করুন কিচ্ছু যায় আসে না। এখন আগুন নিয়ে খেলবেন না।" তিনি আরও বলেন, "কিছু ছোটখাটো নার্সিংহোম নিজেদের নামটা প্রচার করার জন্য উল্টোপাল্টা বলে দিচ্ছে।"
করোনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভাবে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে তা নিয়ে গত সপ্তাহেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে এই বার্তা দিয়ে আসলে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থেকে যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে সেটাকেই প্রশমিত করতে চেয়েছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বারবার সতর্ক করে বলেন, আগামী দু'সপ্তাহ খুব ক্রুশিয়াল। কেউ বাইরে বেরোবেন না। ঘরে থাকুন। লকডাউন মেনে চলুন।"