দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমায় গল্পে যেমন কমিক রিলিফ, রাজনৈতিক শঠে শাঠ্যংয়ের মধ্যে এও যেন তেমনই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সেই বৈঠকের শুরুতেই তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার পরেই সাংবাদিকদের মধ্যে থেকে এক অন্যরকম প্রশ্ন উড়ে আসে তাঁর দিকে।
অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি তো বাংলায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এতো কথা বলেন। কিন্তু ওনার তো আপনার শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গতকাল আপনার ছেলে জয় শাহকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন বলে শুনেছি। উনি নাকি জয়কে বলেছেন, আপনার বাবা এখানে এসে বিনা মাস্ক পরে ঘুরছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুবই চিন্তিত?”
জবাবে অমিত শাহ হেসে বলেন, “দিদি কি আমার বাংলায় আসা নিয়ে চিন্তিত নাকি মাস্ক নিয়ে চিন্তিত!” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “ব্যক্তিগত ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমার কোনও রাগ নেই। আমি ওনাকে যে সব প্রশ্ন করছি সেগুলি একেবারেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ওনার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত। ওনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি একটাও প্রশ্ন করিনি”। তাঁর কথায়, এ ব্যাপারটা কোনও ভাবেই ব্যক্তিগত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখা ঠিক হবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল হিসাবে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে। সেটাই করছি।
রাজনীতিতে এমনই হয়। রাজনৈতিক বিরোধিতা তৈরি হয় মতাদর্শগত বিরোধিতার কারণে। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাগ, প্রতিহিংসার সেখানে স্থান নেই বলেই মনে করা হয়। যদিও রোজকারের রাজনৈতিক ওঠাপড়ায় সে সব বোঝা যায় না। বিশেষ করে বাংলার রাজনীতিতে তো নয়ই।
এখানে বলে রাখা ভাল, সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহকে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেই তথ্যের সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। ওই প্রশ্ন একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকের নিজস্ব প্রশ্ন। তবে হ্যাঁ ব্যক্তিগত ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরকম করেই থাকেন। প্রণববাবুর সঙ্গে তাঁর রৌদ্রছায়ার সম্পর্ক ছিল, কিন্তু দিল্লি গেলে তাঁর জন্য মুঠো মুঠো এক্লেয়ার্স নিয়ে যেতেন। আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই একবার জানিয়েছেন, বছরে অন্তত দু-তিনবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বাঙালি মিষ্টি পাঠান। নিজে বেছে কুর্তা পাঠান। একবার নিতিন গডকড়ী বলেছিলেন, কলকাতায় একবার সরকারি কাজে তিনি গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন তাঁর জন্য বাড়িতে রান্না করা খাবার পাঠিয়েছিলেন।
তবে মজার হল, যে জয় শাহকে দিদি ফোন করেছিলেন বলে খবর, শুক্রবার সেই জয় শাহকে সামনে রেখেই তৃণমূল রাজনৈতিক সমালোচনা করেছে অমিত শাহর। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির অভিযোগ করেছিলেন অমিত শাহ। জবাবে তৃণমূল বলেছে, জয় শাহ কোন ম্যাজিক ফর্মুলায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব হয়ে গেলেন? কী যোগ্যতা রয়েছে তাঁর?