মিমের রাজ্য নেতা জামিরুল হাসানকে গ্রেফতার করল পুলিশ, হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরেই রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, মুসলমানদের বন্ধু সেজে বাইরে থেকে কেউ কেউ হিংসায় মদত ও উস্কানি দিচ্ছে। তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে বিজেপির হাত রয়েছে বলেও অভি
শেষ আপডেট: 15 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরেই রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, মুসলমানদের বন্ধু সেজে বাইরে থেকে কেউ কেউ হিংসায় মদত ও উস্কানি দিচ্ছে। তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে বিজেপির হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তখনই আন্দাজ করা গিয়েছিল, কাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সন্ধ্যায় জানা গেল, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির পার্টি মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন তথা মিম-এর রাজ্য নেতা জামিরুল হাসানকে গ্রেফতার করেছে বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে হিংসার প্ররোচনা দিয়েছিলেন তিনি। গত শুক্রবার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে সংখ্যালঘুদের বিক্ষোভের নেপথ্যে তার ভূমিকা ছিল বলেও খবর।
প্রসঙ্গত, উনিশের লোকসভা ভোটে পরেই বাংলায় তাদের সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে মিম। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ভোটের সঙ্গে বিহারের কিষাণগঞ্জ বিধানসভা আসনটিতে উপনির্বাচন হয়েছিল। বাংলা লাগোয়া ওই আসনে মিম জিতে যাওয়ার পরই বাংলায় ওয়াইসি তার দলের সংগঠন বাড়াতে আরও জোর লাগিয়েছেন। এ ব্যাপারে দলের কোর কমিটির বৈঠকে তৃণমূল নেতাদের আগেই সতর্ক করেছেন দিদি।

শুক্রবার থেকে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বাংলা জুড়ে সংখ্যালঘুদের একাংশ যে তাণ্ডব ও ভাঙচুর করেছে তার নেপথ্যে মিমের উস্কানি রয়েছে বলেই শাসক দলের অনেকের দাবি। তাঁদের মতে, মিমের মতো সংগঠন সংখ্যালঘুদের হিংসার ঘটনায় প্ররোচিত করছে। এটা আসলে বিজেপির খেলা। আসাদউদ্দিন অমিত শাহদেরই তৈরি করা লোক। কিন্তু তাদের এই উগ্র আচরণের দায় আসলে গিয়ে পড়ছে বাংলার তামাম সংখ্যালঘুদের ঘাড়ে। এবং তা আবার ধর্মীয় মেরুকরণে সাহায্য করছে বিজেপিকে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মিমের রাজ্য নেতাকে গ্রেফতার করার মধ্যে একটাও বার্তাও রয়েছে প্রশাসন ও শাসক দলের তরফে। এক, কাউকেই রেয়াত করা হচ্ছে না। এবং দুই, উদার হিন্দুরাও যেন বোঝার চেষ্টা করেন যে সংখ্যালঘু মানেই অন্যায় করে পার পেয়ে যাবেন তা নয়।
তবে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অবশ্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আহ্লাদেই তৃণমূল আশ্রিতরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে। তা নিয়ে মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে বুঝে এখন বহিরাগত তত্ত্ব খাড়া করতে চাইছেন মমতা। তাঁর কথায় “যেখানে যারা এই লুঠতরাজ-অশান্তি করছে, তারা সবাই শাসকদলের লোক। এলাকার লোক কিছু জানে না আর বাইরে থেকে এসে সব করে দিয়ে চলে যাচ্ছে এই তত্ত্ব আমি মানি না।”