
শেষ আপডেট: 31 July 2023 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কলকাতা: আবাস যোজনা (Housing Scheme) থেকে সংখ্যালঘু উন্নয়ন (Minority Development), কেন্দ্রীয় বঞ্চনার (Central Deprivation) অভিযোগে ফের বিধানসভায় সরব মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তাও দিলেন তিনি। বললেন, “বিরোধী দলকে বলব, কাজ করতে ভুল হলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। প্রয়োজনে আমার কাছে আসুন।''
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলার ১১ লক্ষ ১ হাজার ৭৫৭ বাড়ির জন্য গৃহ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকার এক টাকাও দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এত টিম পাঠানোর পরেও, এত রিপোর্ট দেবার পরেও, এত বার গিয়ে দেখা করার পরেও, এমনকী আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার পরেও দেয়নি। আমি শুনেছি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন রাজনৈতিক কারণে দেওয়া যাচ্ছে না।”
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের অভিযোগ, রাজ্যে সংখ্যালঘু উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার চলতি আর্থিক বছরে কোনও টাকা দেয়নি। "যতটা কাজ হয়েছে সবটাই রাজ্য সরকারের টাকায়। তা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু স্কলারশিপে দেশের মধ্যে আমরা এক নম্বর। আমরা ৪৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দিই। সংখ্যালঘুদের জন্য বহু কাজ চলছে। ঢেলে সাজানো হয়েছে।" কোথায় কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে সেই তালিকাও এদিন বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘সংখ্যালঘুদের অনেকেই এখন আইএস, আইপিএস হচ্ছে।‘ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য এবং মাদ্রাসাকে আরও বেশি আধুনিক করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি হাই পাওয়ার কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির কাজ হবে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে তারা ছ’মাসের মধ্যে সরকারকে রিপোর্ট দেবে। যে মাদ্রাসাগুলোর রেজিস্ট্রেশন নেই, তারা সেগুলো খতিয়ে দেখবে। এই কমিটিতে রাখা হবে সংখ্যালঘু বিশিষ্ট মানুষজনদের।
সাঁওতালি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সাঁওতালি ছেলে মেয়েদের জন্য নাচ এবং গানের জন্য ডিপ্লোমা কোর্স চালু হচ্ছে। সাঁওতালি ভাষায় এমএ পড়ার ব্যবস্থা। সব রিজনাল ল্যাঙ্গোয়েজে লেখাপড়ার সুযোগ আরও বাড়ানো হচ্ছে। ওবিসিদেরও স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। স্বনিযুক্তির জন্য মাইক্রো ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ জুলাই শহিদ মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ১০০ দিনের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে এবার রাজ্য নিজের উদ্যোগেই বাংলায় চালু করবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সংখ্যালঘু উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও বাংলা নিজস্ব উদ্যোগে যে আর্থিক সাহায্যের প্রক্রিয়া অক্ষুন্ন রেখেছে, এদিন বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেটাই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
আরও পড়ুন: ভাঙড়ে ঢুকতে পারবেন নওসাদ, আইএসএফ বিধায়কের মামলা নিষ্পত্তি করল হাইকোর্ট