চন্দননগরের পিয়ালী বিনা অক্সিজেনে ধৌলাগিরি শিখরে! প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুরন্ত রেকর্ড
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্বতারোহণের ইতিহাসে দুরন্ত রেকর্ড গড়লেন চন্দননগরের (chandannagar) অভিযাত্রী পিয়ালী বসাক। আজ সকালেই কাঠমাণ্ডুর পর্বতাভিযান আয়োজনকারী সংস্থা পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চারের তরফে খবর মিলেছে, নোপালের ধৌলাগিরি শৃঙ্গ (৮১৬৭ মিটার) সফল
শেষ আপডেট: 1 October 2021 07:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্বতারোহণের ইতিহাসে দুরন্ত রেকর্ড গড়লেন চন্দননগরের (chandannagar) অভিযাত্রী পিয়ালী বসাক। আজ সকালেই কাঠমাণ্ডুর পর্বতাভিযান আয়োজনকারী সংস্থা পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চারের তরফে খবর মিলেছে, নোপালের ধৌলাগিরি শৃঙ্গ (৮১৬৭ মিটার) সফল ভাবে আরোহণ করেছেন পিয়ালী। এই শৃঙ্গ আরোহণই প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে একটি রেকর্ড। কিন্তু সেটাকেও ছাপিয়ে গেছেন পিয়ালী। আগাগোড়া আরোহণটি তিনি করেছেন কোনও কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই!
খবর পাওয়ার পরেই বাংলার পর্বতারোহণ মহলে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে গেছে। পিয়ালীর এই সাফল্য শুধু একজন মহিলা হিসেবে নয়, একজন আরোহী হিসেবেই প্রশংসনীয়। আট হাজারি শৃঙ্গে বিনা অক্সিজেনে আরোহণ অন্যতম কঠিন একটা নজির বলেই মনে করছেন অনেকে। ভবিষ্যতের আরোহীদের আরও সাহসি পদক্ষেপ করার জন্য পিয়ালীর এই সাফল্য যেন একটা দিগন্ত খুলে দিল।
পৃথিবী সপ্তম উচ্চতম শৃঙ্গ ধৌলাগিরি। দুর্গমতার নিরিখে অনেকটাই সামনের দিকে। এই শৃঙ্গ অভিযানই ২০১৬ সালে প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল বাংলার আর এক এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী রাজীব ভট্টাচার্যের। ২০১৩ সালে পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায় বড় বিপদের মুখ থেকে বেঁচে ফিরে আসেন, এই শৃঙ্গ অভিযানে গিয়েই। ফলে বাংলার পর্বতারোহণ ইতিহাসে এই শৃঙ্গ বারবারই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
সেখানেই পা রেখেছেন পিয়ালী। আজ সকালে পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চারের তরফে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, এই আরোহণ মরসুমে এই প্রথম শীর্ষ ছোঁয়ার পতাকা উড়ল ধৌলাগিরির শীর্ষে। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে আরোহণ করেছেন পিয়ালী বসাক এবং বলজিৎ কৌর। এঁদের মধ্যে পিয়ালী বিনা অক্সিজেনে পৌঁছেছেন চুড়োয়। পালকেশ নামের আরও এক আরোহী সামিট করেছেন পিয়ালী ও বলজিতের সঙ্গেই। সেই সঙ্গে ৫ জন শেরপাও সফল আরোহণ করেছেন এই টিমে।
চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালী পেশায় স্কুলশিক্ষিকা। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণী বহু বছর ধরেই একের পর এক পর্বত অভিযানে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানও করেছিলেন, কয়েকশো মিটার নীচ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন বিশেষ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। ২০১৮ সালে ছুঁয়েছিলেন পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানসলু।
এইবার কোমর বেঁধেছিলেন ধৌলাগিরির জন্য। পারিবারিক, আর্থিক-- অনেক প্রতিকূলতা পার করে অভিযান সফল হয়েছে তাঁর। সেই সঙ্গে জুড়েছে বিনা অক্সিজেনে সামিট করার বিরল পালকও। সুস্থ শরীরে পিয়ালীর ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে সারা বাংলা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'