
শেষ আপডেট: 7 July 2023 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত পোহালেই ভোট। অথচ আদালতের নির্দেশ মতো এখনও সমগ্র সেন্ট্রাল ফোর্স (Central Force) রাজ্যে এসে পৌঁছয়নি। মোট ৮২২ কোম্পানির মধ্যে ৩৩৭ কোম্পানি বাহিনী আগেই রাজ্যে এসে পৌঁছলেও বাকি ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও অব্যাহত। বহু জায়গাতেই রাজ্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বুথের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ভোটকর্মীরা। কমিশন বলছে, শুক্রবার রাতের মধ্যে বাকি ফোর্স (Central Force) সমস্ত জায়গায় পৌঁছে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের দিন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সেন্ট্রাল ফোর্সের উপস্থিতি নিয়েই গভীর সংশয় প্রকাশ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী ( Adhirranjan Chowdhury)। একই সঙ্গে সন্ত্রাসের প্রশ্নে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
এদিন বিকেলে বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে অধীর বলেন, “ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) কোথায় থাকবে বুথে না পথে, সেটা আমার জানা নেই। কারণ, ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগেও বহু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মেলেনি।” ভোটের দিনও হিংসার ঘটনা ঘটবে ধরে নিয়েই অধীরের ( Adhirranjan Chowdhury) বক্তব্য, “ তবু আমি বলছি, মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে মরিয়া। তাই ভোটের দিন সন্ত্রাস হবে, বোমা পড়বে, গুলি চলবে, তার মধ্যেই মানুষ ভোট দেবে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলার পঞ্চায়েত ভোটে রক্ত ঝরা নতুন কোনও ঘটনা নয়। চলতি ভোট মরশুমে এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৮ জন। অতীতে প্রতিটি নির্বাচনেই এমন প্রচুর হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) উপস্থিতিতে রাজ্যে এই প্রথম পঞ্চায়েত ভোট। তা সত্ত্বেও ভোটের আগের দিন, শুক্রবার সকালে যেভাবে মুর্শিদাবাদের রানিনগরের কংগ্রেস কর্মী অরবিন্দ মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, তাতে ভোটের দিনে হিংসার প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
মুখ্যমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে একই বন্ধনীতে রেখে অধীরের ( Adhirranjan Chowdhury) অভিযোগ, “নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। বাড়ছে মানুষের মৃত্যু মিছিল।” ভোটের সাড়ে ১৩ ঘণ্টা আগে তৃণমূলের সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে অধীরের প্রশ্ন, “আপনার সন্ত্রাসের তেষ্টা মেটাতে হলে বাংলার আর কত মানুষকে প্রাণ বলি দিতে হবে?”
অধীরের অভিযোগ, এদিন রানিনগরের কংগ্রেস কর্মীর খুনের ঘটনাকে অসুস্থতার কারণে মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল পুলিশ। পুলিশের একটি অংশ বলার চেষ্টা করছে, অরবিন্দবাবুর বুকে পেস মেকার বসানো ছিল। সেটা ফেটেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে ওই ব্যক্তির। যদিও রাজ্যপাল এদিনই জেলায় চলে আসায় পুলিশের সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলেই দাবি অধীরের। দুপুরে রানিনগরে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসাতেও জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে। তবে জেলা পুলিশের দাবি, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর কারণ।
আরও পড়ুন: বাসে চড়ে আদালতে এলেন স্বরাষ্ট্র দফতরের যুগ্ম সচিব, কাটমানি নিয়ে এসপিকে কটাক্ষ