দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড কাণ্ডে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সোমবার ডেকে পাঠানো হয় তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুণাল ঘোষকে। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে কুণালকে জেরা করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
সারদা গোষ্ঠীর মিডিয়া সাম্রাজ্যের মাথা ছিলেন কুণাল। খবরের কাগজ থেকে টিভি চ্যানেল, একাধিক সংস্থার শেষ কথা ছিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ। চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে বেশ কয়েক বছর জেলেও থাকতে হয় তাঁকে। আপাতত তিনি জামিনে মুক্ত। কিন্তু একাধিক শর্তে জামিনে রয়েছেন তিনি। সোমবার সেই কুণাল ঘোষকেই ডেকে পাঠিয়ে জেরা করছেন সিবিআই আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, জেলে থাকার সময় কুণাল যতটা রণংদেহী ছিলেন শাসক দলের বিরুদ্ধে, জামিন পাওয়ার পর তার অনেকটা ঝাঁঝ কমে গিয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে। জামিনে বাইরে আসার পর থেকেই শাসক দলের কাছে আসার প্রক্রিয়া শুরু করে দেন তিনি। কয়েকমাস আগে দিল্লিতে তৃণমূলের সংসদীয় পার্টি অফিসে মুখোমুখি দেখাও হয়ে যায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সৌজন্য বিনিময়ে মমতা তাঁকে বলেন, ‘কী কুণাল কেমন আছো? তিন বছর পর দেখা হলো।’ উত্তরে কুণাল বলেন, ‘তিন বছর নয় দিদি। পাঁচ বছর।’ এরপর দিন এগিয়েছে আর কুণালের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে এবড়োখেবড়ো হয়ে যাওয়া সম্পর্ক ক্রমেই মসৃণ হতে শুরু করে। এ বছরের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও জায়গা করে নেন কুণাল। সারদা কাণ্ডে অন্য এক অভিযুক্ত তথা প্রাক্তনমন্ত্রী মদন মিত্রর সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মাততেও দেখা যায় কুণালকে।
কাকতালীয় হলেও সত্যি, দু'দিন আগেই কুণাল মুখ খুলেছিলেন এক সময়ের বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান তথা বর্তমান মালদার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে। পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন নিয়ে মানিকচকের হিংসাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দেন কুণাল। বলেন, “কে মারছে, কাকে মারছে এগুলি রাজনৈতিক চাপানউতোরের বিষয়। কিন্তু অস্ত্র এল কোথা থেকে? পুলিশ কি আঙুল চুষছিল? মানিকচকে ধারাবাহিক হিংসা চলছে। এত অস্ত্র। কেন অর্ণব ঘোষকে বেঁধে রাখা হবে না? কেন অর্ণব ঘোষের মেডেল খুলে নেওয়া হবে না।” সারদা কাণ্ডে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল আইপিএস অর্ণব ঘোষের দিকেও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কাকতালীয় হলেও সত্যি, অর্ণবের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ৭২ ঘণ্টা পেরনোর আগেই সিবিআই ডেকে পাঠাল কুণালকে।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের শাসক দলের নেতারা প্রায়ই বলেন, ভোট এগিয়ে এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সিবিআই, ইডি'র মতো সংস্থা। গত ২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ থেকে এ নিয়ে বিজেপি'র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা। বললেন, উনিশের ভোট আসছে। তাই লাফালাফি বেড়ে গেছে। ইনকা খিলাফ সিবিআই করনা হ্যায়, উনকে খিলাফ সিবিআই করনা হ্যায়! এর পরই হুমকির সুরে মমতা বলেন, “এ ভাবে ধমকে চমকে লাভ নেই! আমরাও বুঝে নেব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে”। তাঁর কথায়, “সারদা-র যখন জন্ম হয়েছে, তখন তৃণমূল জন্মায়নি। বামেদের সময় চিটফান্ডের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। আমাদের সময়ে নয়। চিটফান্ডের টাকা তৃণমূলের দরকার নেই।" ইতিমধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে। শাসক দলের অনেকেরই আশঙ্কা, যত ভোট এগিয়ে আসবে তত বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে লেলিয়ে দেবে। এ দিনের কুণালকে তলব শাসকের সেই আশঙ্কাকে বেশ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের অনেকে।