দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রজাপতি নিয়ে বাঙালির রোম্যান্টিসিজমের শেষ নেই। এর পাখনার রঙের অজানা রহস্য জানতে বরাবরই উৎসাহী পড়ুয়ারাও। এবার স্কুল পড়ুয়াদের মনোরঞ্জনের জন্য বীরভূম জেলায় প্রথম তৈরি হল প্রজাপতি উদ্যান। সেখানে রয়েছে প্রায় দুশো প্রজাতির প্রজাপতি।
সিউড়ি এক নম্বর ব্লকের কড়িধ্যা যদুরায় মেমোরিয়াল অ্যান্ড পাবলিক ইনস্টিটিউশনে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রজাপতি উদ্যান। কাচ দিয়ে মোড়া এই প্রজাপতি উদ্যানে পড়ুয়ারা প্রত্যক্ষ করছে ডিম, লার্ভা ও পিউপা থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রতিটি ধাপ।
দেড়বছরেরও বেশি সময় পর স্কুলে ফিরতে পেরে এমনিতেই খুশি পড়ুয়ারা। তারপর আবার এই প্রজাপতি উদ্যান পড়ুয়াদের খুশিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে গ্রিন হাউসের কালচে কাচে চোখ রেখে প্রজাপতির জীবনচক্র দেখছে তারা, যা এতদিন সীমাবদ্ধ ছিল শুধুমাত্র জীবন বিজ্ঞানের বইয়ের পাতাতেই।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে গত ১০ নভেম্বর জেলাশাসক বিধান রায়ের হাত ধরেই উদ্বোধন হয়েছে সিউড়ির এই প্রজাপতি উদ্যানের। মূলত ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকায় গড়ে ওঠা প্রজাপতি উদ্যানটিতে সেদিনই ছাড়া হয়েছিল প্রায় দুশো প্রজাতির প্রজাপতি।
এখন দেখা যাচ্ছে চোখের সামনে প্রজাপতির জীবন চক্র দেখে পড়ুয়ারা তো বটেই, খুশি হয়েছেন শিক্ষকরাও। এমনকি সেই জীবনচক্র দেখার জন্য অন্যান্য স্কুল থেকেও পড়ুয়ারা এসে ভিড় জমাচ্ছেন এই প্রজাপতি উদ্যানে।
জানা গেছে, ২০২০ সালে তৎকালীন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু প্রথম এই প্রজাপতি পার্ক তৈরির কথা ভেবেছিলেন। কিভাবে হবে এই পার্ক হবে, সে বিষয়ে বন দফতরের সঙ্গে কথা বলে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকাও বরাদ্দ করা হয়। বিভিন্ন প্রজাপতির পছন্দের গাছ নির্বাচন করে সেগুলি লাগানো, সেগুলি বড় করা ও প্রজাপতির বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে খানিক সময় লাগে। তবে কোভিডের জেরে স্কুল বন্ধ থাকায় দেরি হলেও প্রজাপতি উদ্যানের কাজ হয়েছে ব্লক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে।