
শেষ আপডেট: 27 March 2023 08:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: স্বামী আছেন। দিব্যি সুখের সংসার। তার মধ্যেই মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়েছিল এক যুবকের সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম-তারপর সেই প্রেমের টানে ঘর ছাড়েন বিবাহিতা তরুণী। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর ফিরে আসেন স্বামীর কাছে। কিন্তু স্বামী বা প্রেমিক, কেউই মেনে নেননি সন্তানকে। উল্টে প্রেমিক গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা করার জন্য চাপ দিত দিনের পর দিন। অবশেষে অন্তঃসত্ত্বা (pregnant) তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হল নিজের ঘর থেকে। তাঁকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট (Basirhat) মহকুমার হাড়োয়া থানার বগজুড়ি পঞ্চায়েতের খাড়ুবালা গ্রামে। মৃতা তরুণীর নাম কেয়া মণ্ডল। ১৯ বছর বয়সি তরুণীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল ২৪ বছর বয়সি সুমন্ত মণ্ডলের। সুমন্তর হাত ধরে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে বাড়ি ছেড়ে পালান কেয়া। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর জানুয়ারি মাসে খাড়ুবালা গ্রামে নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন তরুণী। তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন স্বামী এবং প্রেমিক দুজনেই।
সুমন্ত তরুণীকে জানায়, গর্ভপাত করাতে হবে তাঁকে। সেই প্রস্তাবে রাজি হননি কেয়া। এই নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর বচসা, এমনকী, হাতাহাতিও হয়। অবশেষে সোমবার ভোররাতে নিজের ঘর থেকেই কেয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনা জেনে এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বোনের মৃত্যুর জন্য তার প্রেমিক সুমন্তর দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন কেয়ার দিদি সরস্বতী মণ্ডল। তাঁর দাবি, বোনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে সুমন্ত। গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা করার জন্য বেশ কয়েকবার সুমন্ত কেয়ার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে দেহটি। আত্মহত্যা নাকি খুন, তা রিপোর্ট আসার পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুমন্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। দোষীর কড়া শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন মৃতার পরিবারের লোকজন।
কলকাতায় রাষ্ট্রপতি, রেসকোর্সে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী, দিনভর কর্মসূচি দ্রৌপদীর