দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে বোম উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে শাসক-বিরোধী দলের চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। বোম রাখার দায় একে অপরের উপর চাপাচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি। পুলিশ বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেছে। কিন্তু কে বা কারা বোমা রাখল, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি তদন্তে।
রবিবার আউশগ্রামের ব্রাহ্মনডিহি গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে বালির গাদার উপরে বেশ কিছু বোমা উদ্ধার হয়। ওই পুকুরপাড়ে আগে থেকেই কিছু বালি জড়ো করে রাখা ছিল। এদিন কয়েকজন বাচ্চা খেলা করার সময়ে পুকুরের পাড়ে সেই বালির গাদার ওপরে কয়েকটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে। তারাই স্থানীয়দের খবর দেয়, তার পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় সিআইডির বোম স্কোয়াডকেও।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই সমস্ত বোমা মজুত করে রেখেছিল এলাকায় সন্ত্রাস ঘটানোর উদ্দেশে। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তাদের কর্মীদের ফাঁসানোর উদ্দেশেই বোমাগুলি মজুত রেখেছিল শাসকদলের লোকজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন আগে গ্রামে মেলার অনুষ্ঠান চলাকালীন রাতের দিকে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছিল। সেবারেও কারা এমন ঘটিয়েছিল স্পষ্ট হয়নি। এদিন ফের বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরকে দোষারোপ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ব্রাহ্মনডিহি গ্রামের বাসিন্দা, ভেদিয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি নাসিরুল শেখ বলেন "বিজেপির দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি করে এলাকা অশান্ত করার উদ্দেশে বোমাগুলি মজুত রেখেছিল। তারাই সেগুলি বালির গাদায় ফেলে দিয়ে যায়।"
আবার আউশগ্রামে বিজেপির ৫২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি নিতাই বিশ্বাস বলেন, "ব্রাহ্মনডিহি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক যুবক তৃণমূল ছেড়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের ফাঁসানোর চক্রান্ত করে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরাই বোমাগুলি রেখেছিল। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখুক।"
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা আউশগ্রাম বিধানসভার পর্যবেক্ষক শ্যামল রায় বলেন, "বিজেপির উপর দোষ চাপানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসই এসব করছে। তৃণমূল বোমা-গুলি নিয়ে রাজনীতি করে। বোমা বা বারুদ যতই রাখুক, এবার নির্বাচনে আউশগ্রাম বিধান সভা বিজেপিই জিতবে।"