
শেষ আপডেট: 17 December 2023 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কার্শিয়াং-এর ডাওহিল, বাঙালি তো বটেই, সারা ভারতের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ছুটি কাটানোর অন্যতম ঠিকানা উত্তরবঙ্গের এই শৈলশহর। অনেকেই বলেন, এই শহরটি নাকি ভূতুড়ে, সেই আকর্ষণে আরও বেশি করে এখানে ছুটে যান মানুষ। এমনিতে ডিসেম্বর মানেই পর্যটনের মরশুম। তাই আপাত নিরিবিলি ডাওহিলও এখন বেশ গমগম করছে। জাঁকিয়ে শীতও পড়েছে। এর মধ্যেই নাকি সেখানে একটি কালো রঙের চিতার দেখা পাওয়া গেছে! তার জেরেই পর্যটক তো বটেই, স্থানীয়দের মধ্যেও প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, স্থানীয় বাসিন্দারাই এলাকায় একটি কালো চিতাকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। এমনিতে দার্জিলিং এবং কালিম্পং-এর পার্বত্য এলাকায় কালো চিতার আগমন নতুন কিছু নয়। নেওড়া ভ্যালির জঙ্গল থেকে প্রায়শই লোকালয়ে বেরিয়ে আসে কুচকুচে কালো রংয়ের হিংস্র চতুষ্পদটি। গ্রামবাসীদের বাড়ি থেকে হাঁস মুরগি কামড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে ভোজ সারে তারা। তবে নতুন ঘটনা না হলেও আতঙ্ক তো আর কমে না!
বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও চিতাটিকে ক্যামেরাবন্দি করা যায়নি। রাতের অন্ধকারে রাস্তা পার হওয়ার সময় কয়েকবার মাত্র তার দেখা মিলেছে। তাই এই মুহূর্তে সেটি কোথায় রয়েছে বলা মুশকিল। তবে পার্বত্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়ে চিতাটির অবস্থান বোঝার চেষ্টা চলছে। কালিম্পং-এর ডিলারাম এবং বাগোরা এলাকাতেও একটি কালো চিতার দেখা মিলেছে বলে খবর। তবে সেটি এই একই প্রাণী কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এখনও পর্যন্ত চিতাটির আক্রমণে কেউ আহত হয়েছেন, এমন খবর মেলেনি। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, আতঙ্কের কিছু নেই। চিতাটি সম্ভবত শিকারের খোঁজেই লোকালয়ে নেমে এসেছে। শিকার পেয়ে গেলে সাধারণত এই ধরনের প্রাণী মানুষের উপর হামলা করে না বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে খুব প্রয়োজন ছাড়া সূর্যাস্তের পর রাস্তায় ঘোরাফেরা না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এলাকাবাসীকে।
পাহাড়ের মানুষদের কাছে কালো চিতা দেখতে পাওয়া নতুন কিছু নয়। বক্সা-জয়ন্তীর বিভিন্ন এলাকা এবং মিরিকে গত কয়েক বছরে একাধিকবার কালো চিতার দর্শন মিলেছে। তবে সমতলের মানুষের কাছে যেহেতু এমন দৃশ্য বিরল তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা বন্যপ্রাণী চাক্ষুষ করতে মুখিয়ে থাকেন। তাই অত্যুৎসাহী হয়ে কেউ যেন বিপদে না পড়েন তার জন্য সকলকে সতর্ক করেছেন বন বিভাগের আধিকারিকরা।