
শেষ আপডেট: 20 July 2023 03:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সংসদের বাদল অধিবেশনের সূচনায় বিরোধী দলগুলির প্রধান অস্ত্র মণিপুর। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটির অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ধরা বিরোধী দলগুলির অভিন্ন কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রীকে মুখ খুলতে বাধ্য করা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের পদত্যাগের দাবিতেও সরব হবেন বিরোধী সাংসদেরা।
অন্যদিকে বিজেপির (BJP) অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা (Bengal Violence)। বুধবার সংসদে লোকসভায় স্পিকারের ডাকা বৈঠকে সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী স্পষ্ট করে দেন সরকার সব বিষয়েই আলোচনায় রাজি। বিজেপির দাবি, সব বিষয়ের মধ্যে তাদের এজেন্ডায় অন্যতম হল বাংলার রাজনৈতিক হিংসা। মণিপুরের মতোই তা দু'মাসের বেশি চলছে। আধা সেনা নামিয়েও বন্ধ হয়নি বিরোধীদের উপর আক্রমণ।
গত পরশু বেঙ্গালুরুতে ২৬টি বিরোধী দলের বৈঠক শুরুর মুখে এ নিয়ে বিতর্ক খুঁচিয়ে তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বাংলায় তৃণমূলের হাতে মার খাচ্ছে বাম, কংগ্রেসের কর্মীরা। অথচ সেই দলের নেতারা বেঙ্গালুরুতে গলাগলি করছেন। সেদিন সন্ধ্যাতেও এনডিএ বৈঠকে এই প্রসঙ্গ তুলে ফের কংগ্রেস এবং তৃণমূলের বোঝাপড়া ভেঙে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের সূচনাতেও পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত হিংসাকেই হাতিয়ার করতে চলেছে পদ্ম শিবির। রাজ্য বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, তারা একদিকে যেমন তৃণমূলের হিংসার বিরুদ্ধে সরব হবে তেমনি বাম কংগ্রেস এবং তৃণমূলের বোঝাপড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন। উদ্দেশ্য এই তিন দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই প্রশ্ন গেঁথে দেওয়া তৃণমূলের হিংসার অবসান নাকি মোদী সরকারের বিরোধিতা, কোনটি তাদের আশু দাবি।
রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, আজ কংগ্রেস নেতারা বাংলার সন্ত্রাস নিয়ে বিজেপির অভিযোগের জবাবে কী বলেন। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে থেকে অধীর চৌধুরী, প্রত্যেকের দিকেই এই ব্যাপারে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সংসদে কংগ্রেসের দলের নেতা অধীর কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা করে হিংসা মুক্ত অবাধ ভোটের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজের রাজনৈতিক গড় বহরমপুরেই প্রবল ধাক্কা খেয়েছেন অধীর। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় পঞ্চায়েতের কোন ভোটই হয়নি। অবাধে ছাপ্পা এবং সন্ত্রাস রিগিং হয়েছে। সেই সঙ্গে গণনাতেও ব্যাপক কারচুপি করা হয়।
একই সুরে কথা বলছে সিপিএম, বিজেপিও। সিপিএমের আইনজীবী নেতা তথা রাজ্যসভার সদস্য বিকাশ ভট্টাচার্য প্রতিদিনই কোনও না কোনও মামলায় পঞ্চায়েত ভোটের অনাচার তুলে ধরছেন।
ফলে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, দিল্লির শাসক দল যখন বাংলা শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হবে তখন কংগ্রেসের অবস্থান কী হবে।
বাংলার সিপিএম নেতৃত্ব এই বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করে রেখেছে। বেঙ্গালুরুর বৈঠকেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি স্পষ্ট করে দেন, বাংলায় তৃণমূল এবং কেরলে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের লড়াই চলবে। বুধবারও আলিমুদ্দিন সিটের কর্তারা দিনভর এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যাতে বেঙ্গালুরুর বৈঠক নিয়ে কিংবা নতুন জোট ইন্ডিয়া'র শরীর থাকা নিয়ে দলের নিচু তলায় কোন ধরনের সংশয় প্রশ্ন তৈরি না হয়। কিন্তু বাম শিবিরেও অস্বস্তি কম নয়। বিজেপি যখন বাংলার সন্ত্রাস নিয়ে মুখ খুলবে তখন কী করবেন দলের সাংসদেরা। লোকসভায় বাংলা থেকে বামেদের কোনও সাংসদ নেই। কিন্তু কেরল, তামিলনাড়ুর সিপিএম সাংসদেরা কী মুখ বুজে থাকবেন দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা মুখ খুললে? রাজ্যসভায় কী বলবেন সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য?
মণিপুর নিয়ে ভয়ানক চাপে পড়ে গেল মোদী সরকার, ইস্তফা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং