সাতসকালে চা বাগানে দুলকিচালে বাইসন, পড়িমরি করে দৌড় শ্রমিকদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোরের আলো ফুটেছে। চা বাগানের পথ ধরেছেন শ্রমিকরা। চা বাগানের ঢালু জমি শুরুর আগেই পড়ে সুপারি বাগান। সেখানে পা দিতেই আর্ত চিৎকার এক শ্রমিকের। মুখ ফিরিয়ে দৃশ্য দেখে বাকিরাও তখন থমকে গেছেন। বাগানের গাছপালায় ঘেরা জায়গায় তখন ঘাপট
শেষ আপডেট: 24 March 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোরের আলো ফুটেছে। চা বাগানের পথ ধরেছেন শ্রমিকরা। চা বাগানের ঢালু জমি শুরুর আগেই পড়ে সুপারি বাগান। সেখানে পা দিতেই আর্ত চিৎকার এক শ্রমিকের। মুখ ফিরিয়ে দৃশ্য দেখে বাকিরাও তখন থমকে গেছেন। বাগানের গাছপালায় ঘেরা জায়গায় তখন ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা বড় বাইসন। শ্রমিকদের রাস্তা জুড়ে যেতে দেখেই সম্ভবত দাঁড়িয়ে গেছে সেটি। ফের ধীর পায়ে হাঁটা শুরু করেছে চা বাগানের দিকে।
সোমবার সকালে মালবাজার মহকুমার সোনগাছি চা বাগানে পূর্ণবয়স্ক একটা বাইসন আতঙ্ক তৈরি করলো চা শ্রমিকদের মধ্যে। ছুটোছুটি, দৌড়োদৌড়ি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। চা শ্রমিকদের মতে, এই জাতীয় প্রাণীদের গতিবিধি বোঝার সাধ্য কারও নেই। এই শান্ত, আবার নিমেষের মধ্যেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে বাইসন। শিঙের গুঁতোয় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
তবে এই বাইসনটি নাকি তেমন উৎপাত করেনি। চা বাগানের ভিতরেই ঘোরাঘুরি করছিল সেটি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন দফতরের কর্মীরা। প্রথমে সেটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। তবে, এত মানুষের ভিড় দেখে ঘাবড়ে গিয়ে এবং বনকর্মীদের তাড়া খেয়ে সেটি চা বাগানের আরও ভিতরে ঢুকে পড়ে। বাইসন ধরতে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে হয় বনকর্মীদের।

‘অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন’ সীমা চৌধুরী জানিয়েছেন, বাইসন দেখতে সকাল দেখতেই চা বাগানে ভিড় জমিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। তার পর শ্রমিকদের চিৎতার, চেঁচামেচির জন্য সেটি আরও ভয় পেয়ে দিশা হারিয়ে ফেলে। মানুষজনকে সরিয়ে এলাকা ফাঁকা করতেই হিমশিম খেতে হয় বনকর্মীদের। পরিস্থিতি সামলাতে খবর দেওয়া হয় এসএসবি-কে।
বাইসনকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়াতে খবর দেওয়া হয় জলপাইগুড়ির ট্রাংকুলাইজ টিমকে। ট্রাংকুলাইজ বিশেষজ্ঞ বিজয় ধর পর পর দু’বার গুলি ছুড়ে কাবু করেন বাইসনটিকে। পরে তার মুখ ও পা বেঁধে নিয়ে য়াওয়া হয় খুনিয়া রেঞ্জ অফিসে। সেখানেই চিকিৎসার পর বাইসনটিকে খুনিয়ার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিবেশ প্রেমী সংগঠন স্পোর-এর সম্পাদক শ্যামা প্রসাদ পান্ডের কথায়, ‘চাপড়া মাড়ি জঙ্গল থেকে কোনও ভাবে পথ হারিয়ে বাইসনটি চা বাগানে ঢুকে পড়ে। সেখানে লোকের ভিড় ও চিৎকার শুনে সেটি একটি বাঁশ ঝাড়ের নীচে আশ্রয় নেয়।‘’’ গ্রামবাসীদের হুড়োহুড়ি দেখে সেটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে বড় বিপদ ঘটতে পারতো বলেই মনে করছেন তিনি।
দিনকয়েক আগেই আলিপুরদুয়ার এলাকার তুরতুরি গ্রামে দিনভর দাপিয়ে বেড়ায় দু’টি বাইসন। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল থেকে কোনও ভাবে লোকালয়ে চলে এসেছিল সে দু’টি। বাইসনের হানায় গুরুতর জখম হন দু’জন। শেষমেশ ঘুমপাড়ানি গুলি দিয়ে কাবু করা হয় বাইসন দু’টিকে।