দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনসভায় রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। আজ, রবিবার বীরপাড়ার প্রগতি ময়দানে তীব্র ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন তিনি। সেইসঙ্গেই ডুয়ার্সের আদিবাসী, মুসলিম, বিহারি, রাজবংশী-সহ সব জাতির মানুষকেই তিনি ভালবাসেন বলে সম্প্রীতির বার্তাও দিলেন।
এদিনের জনসভায় বিজেপিকে একটি ভোটও দিতে বারন করেছেন বিমল গুরুং। জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। এই লড়াইয়ে সকলকে পাশে চেয়েছেন তিনি। মোদী কথা দিয়ে কথা রাখেননি বলেও অভিযোগ করেছেন বিমল গুরুং।
এদিন বিমল গুরুংয়ের সভা ঘিরে উত্তেজনা ছিল আগে থেকেই। তবে জনসভায় সময় অনেকটা পেরিয়ে গেলেও সেভাবে কিন্তু কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়নি। সভায় উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রথম সারির নেতারা। বীরপাড়ায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পর সভা করেছেন বিমল গুরুং।
আবেগপ্রবণ বক্তৃতায় বিমল গুরুং বলেন, "পঞ্চায়েতে বিজেপিকে জেতালাম, বিধানসভায় জেতালাম, লোকসভাতেও জেতালাম। কিন্তু আমাদের কথা দিয়েও কথা রাখেনি বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শা বলেছিলেন আমাদের সমস্যার সমাধান করবেন। কিন্তু সাড়ে তিন বছরে কিছুই করেননি।"
উল্লেখ্য, এই বীরপাড়াতেই সভামঞ্চে বিমল গুরুংকে পাশে বসিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, 'গোর্খাদের সমস্যা, আমাদের সমস্যা। গোর্খাদের দাবি, আমার দাবি।'
এদিন জনসভায় বিজেপি সাংসদ জন বার্লাকেও আক্রমণ করেন বিমল গুরুং। তাঁর দাবি, তাঁর জন্যই টিকিট পেয়েছিলেন এবং গোর্খাদের সমর্থনে ভোটে জিতেছিলেন জন বার্লা। কিন্তু তারপর গোর্খাদের কথা মনে রাখেননি জন।
বিমল গুরুং বলেন, "বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল, হিংসাত্মক দল। তাই বিজেপিকে আর একটি ভোটও নয়। পাহাড় থেকে সমতল-- সব আদিবাসী, রাভা, রাজবংশী-সহ সব জনজাতির মানুষকে অনুরোধ, বিজেপিকে আর ভোট নয়।"
তিনি আরও বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়ে কথা রাখতে জানেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালাব।" আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই লক্ষাধিক কর্মী সমর্থকদের নিয়ে জয়গাঁতে সভা করবেন বলেও ঘোষণা করেন তিনি।