
শেষ আপডেট: 24 April 2023 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পাত্রপক্ষ রাজি ছিলই। কিন্তু পাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে পাত্রী মিলতেই ধুমধাম করে বট গাছের বিয়ে দিয়ে দায় মুক্ত হলেন রেখা পাশোয়ান। ভাবছেন কার সঙ্গে বট গাছের (banyan tree) বিয়ে দিলেন! আসলে বট গাছের সঙ্গেই বট গাছের বিয়ে হল পূর্ববর্ধমানের মেমারির (Memari) পারিজাত নগরে।
একেবারে রীতি মেনে হল বিয়ে (marriage)। কলাগাছ বসিয়ে, আলপনা দিয়ে বিয়ের আসর সাজানো হয়েছিল। লাল শাড়ী, ধুতি, শাঁখা সিঁদুরে কনে আর বরকে টোপর পরিয়ে বিয়ে হল দুই বটগাছের। পুরোহিত মন্ত্র পাঠও করেন। আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীরাও হাজির হন বিয়ের অনুষ্ঠানে।
বৃদ্ধা রেখা পাশোয়ানের দুই মেয়ে। তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এই বটগাছকে ছোট থেকেই পুত্রস্নেহে লালন পালন করেছেন এই বৃদ্ধা ও তাঁর স্বামী। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন কিন্তু ছেলেকে বিয়ে দিতে পারেননি। এই নিয়ে আক্ষেপ ছিল বিস্তর। স্বামী মারা যাওয়ার পর দায় ছিল তাঁরই। তাই সব দেখে শুনে তিনিই বটের বিয়ে দিলেন।
রেখা দেবী জানান, 'ছোট থেকে ছেলের মত বড় করেছি বটগাছটাকে। তাই আমার দায়িত্ব ছিলই। কিন্তু পাত্রী পাচ্ছিলাম না। তারপর দেখলাম বট গাছটার নিচেই আরেকটা বট গাছ আছে। তাই পাড়া প্রতিবেশীকে বলে ওদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই।' তিনি আরও জানান, বহু বছর ধরে কথিত আছে বট গাছকে ছেলে হিসেবে পালন করে বিয়ে দিলে, স্বর্গে গিয়ে বাবা মায়ের পাপের সব ভার নেয় এই বট। মূলত ছেলের দায়িত্ব স্বর্গে গিয়েও পালন করে বটগাছ। তাই এই বিয়ের অনুষ্ঠান।
বৃদ্ধার অনুরোধ ফেলতে পারেনি পাড়াপড়শিরাও। তাদের জানাতেই সব রকম সাহায্য করেছেন বৃদ্ধাকে। বিয়ের লিস্ট মেনে দশকর্মার বাজারও করেছেন প্রতিবেশীরা। অভিনব এই বিয়ে দেখতে বিয়ের বাসরে হাজির হন গ্রামের মানুষ।
গাড়ির মালিকদের দিয়েই ভাতারের রাস্তায় কাদা পরিষ্কার করাল পুলিশ