দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগেই তৃণমূলের মুখপাত্র সমীর চক্রবর্তী তাঁর উদ্দেশে বড় সড় খোঁচা দিয়েছেন। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বলেছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কথা তাঁর কোনও স্বঘোষিত মুখপাত্রের থেকে শুনব না।
কিন্তু বৈশাখী যেন অপ্রতিরোধ্য। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁকেও রাজ্য কমিটিতে নিতে বাধ্য হয়েছেন দিলীপ ঘোষরা। তার পর শোভনবাবুর এই বান্ধবী শুক্রবার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন তা বেশ অর্থবহ। অনেকের মতে, শোভনের উপর ভর করে যেন প্রাক্তন মেয়রকেই রাজনীতিতে দ্রুত ছাপিয়ে যেতে চাইছেন বৈশাখী।
ফেসবুক পোস্টে কী লিখেছেন বৈশাখী?
তাঁর কথায়, রাজ্যের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হওয়া একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। আমি আশীর্ব্বাদধন্য বোধ করছি। আমি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি রামলালজির প্রতি, যাঁর স্নেহের কথা কখনও ভুলব না। আমাকে বিজেপির সদস্য করার জন্য সন্তোষজি, জে পি নাড্ডাজির কাছেও কৃতজ্ঞ। শ্রীপ্রকাশজি এবং মেননজি আমাকে যে রকম ধারাবাহিক ভাবে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন তাতে কোনও ধন্যবাদ জ্ঞাপনই যথেষ্ট নয়। কৈলাসজি ও মুকুলদার আশীর্ব্বাদ আমার সঙ্গে সব সময়েই ছিল। আর দিলীপদার প্রতিও কৃতজ্ঞ, আমার উপরে আস্থা রেখেছেন তিনি।
রামলালজি ও সন্তোষজি কে আগে জেনে রাখা দরকার। রামলাল হলেন সর্বভারতীয় বিজেপির প্রাক্তন সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক। আর বি এল সন্তোষ হলেন বর্তমান সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক। বিজেপি সংগঠনে সভাপতির পরই সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদকের পদের ওজন।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বৈশাখীর এই পোস্ট মজাদার ও রাজনৈতিক ভাবে অর্থবহ। উনি হয়তো দেখাতে চাইছেন দিল্লি ও বাংলা বিজেপির তাবড় সব নেতাদের আশীর্ব্বাদ রয়েছে তাঁর উপর। এবং তা দিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্য নেতা কর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে একটা ধারনা তৈরি করতে চাইছেন। বিজ্ঞাপনের পরিভাষায় একে পারসেপশন ম্যানেজমেন্টও বলা যেতে পারে।
রাজ্য বিজেপির এক উপরের সারির নেতাও এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সহমত। তাঁর কথায়, দলের অনেক রাজ্য নেতা রয়েছেন যাঁদের সঙ্গে রামলালজি বা সন্তোষজির কখনও কথা বা দেখা হয় না। বৈশাখী রাজ্য কমিটিতে ঢুকেই হয়তো নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে চাইছেন।
ফেসবুক পোস্টে শোভনের কথাও লিখেছেন বৈশাখী। তাঁর কথায়, সবশেষ বলি, আমার সব রকম পরীক্ষা ও সাফল্যে শোভন সবসময়েই পাশে থেকেছেন। তাঁর প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।