দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশে উড়েছিল জয়ের আবির। ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জিতে বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য প্রার্থী হাতে পেয়ে গিয়েছিলেন সার্টিফিকেটও। কিন্তু সে গুড়ে বালি ঢেলে দিলো সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনের ব্যাপারে গলদঘর্ম রাজ্য সরকার এবং কমিশনকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও বেজায় অস্বস্তিতে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূল জিতে গিয়েছিল বীরভূম জেলা পরিষদ সহ সিংহভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির আসন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারেও ৯৩ শতাংশ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফুটে গিয়েছিল ঘাসফুল।
আদালত যেমন ভোট প্রক্রিয়া কমিশনের ‘ইচ্ছার’ উপর ছেড়ে দিয়েছে ঠিক তেমনই আটকে দিয়েছে ৩৪ শতাংশ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতাও। ই-নমিনেশন গ্রহণের হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালত যেমন ই-নমিনেশন গ্রহণের হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা জিতেছে তাদের এখনই সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। ফলে ভোটের আগেই বীরভূম এবং বাঁকুড়া জেলা পরিষদ জিতে ফেলার আনন্দ করে ফেললেও আদালতের রায়ে জেতা হয়ে উঠলো না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০০৩ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় গ্রাম দখলের সিপিএম-এর ‘অনিলীয়’ কায়দাকেও অনেক জায়গায় হারিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ‘চড়াম চড়া’ ঢাকের তালে রাস্তায় ‘উন্নয়ন’ দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন কেষ্ট আর ডায়মন্ডহারবারে ঘটেছে ‘নিঃশব্দ বিপ্লব।’ একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা কান্তি গাঙ্গুলী চেনা এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে থেকেও প্রার্থী ‘খুঁজে পাননি’। একই অবস্থা হয় বিজেপি, কংগ্রেসেরও। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ জুলাই। ততদিনে হয়তো পরে হওয়া বাকি ৬৬ শতাংশের ফলাফল বেড়িয়ে গেলেও আগে জিতে যাওয়ারা আটকে থাকবেন আদালতের গেরোয়।