
শেষ আপডেট: 10 September 2019 18:30
জালিয়ানওয়ালাবাগ স্মৃতি উদ্যানের ভিজিটর বুকেও ক্ষমা চেয়ে আর্চবিশপ লেখেন, আজ থেকে একশো বছর আগে যে জঘন্য অপরাধ এই উদ্যানে ঘটানো হয়েছিল তা খুবই লজ্জাকর। মৃতদের পরিবার সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারবেন না কোনও দিনই। প্রার্থনা করছি, এই হিংসার শিকড় উপড়ে ফেলে ক্ষমা ও সমন্বয়ের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বে।
গত একশো বছরের ইতিহাস চর্চায় জালিয়ানওয়ালা বাগ গণহত্যাকে সাধারণ ভাবে চিহ্নিত করা হয় ‘শেষের শুরু’ বলে। জালিয়ানওয়ালা বাগ সংক্রান্ত বইপত্রে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, দেশবিদেশের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনীতির টানাপড়েন। জালিয়ানওয়ালা বাগে সে দিন ঠিক কী ঘটেছিল, সে নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে ইতিহাসবিদদের মধ্যেও। সরকারি ‘ডিসর্ডার্স এনকোয়্যারি কমিটি’ (হান্টার কমিটি) এবং বেসরকারি ‘কংগ্রেস পঞ্জাব এনকোয়্যারি’, এই দুটি তথ্যসূত্রই যাবতীয় আলোচনা ও সমালোচনার ভিত্তি।
১৯১৯ সালের ৩০ মার্চ সমগ্র ভারতব্যাপী সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হবে বলে স্থির করা হল। পরে অবশ্য ৩০ মার্চের পরিবর্তে ৬ এপ্রিল আন্দোলন শুরু হল। এই আইন অমান্যের বিরুদ্ধে জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থী কিছু নেতা, যেমন, অ্যানি বেসান্ত, খাপার্ডে, ওয়াচা, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়রা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলন শুরু হল। দিল্লিতে গুলি চলল এবং দিল্লি আসার পথে গাঁধীজিকে ৯ এপ্রিল ট্রেনের মধ্যে গ্রেফতার করা হল। অমৃতসরে ডঃ কিচলু ও ডঃ সত্যপালকে পুলিশ গ্রেফতার করায় তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই পরিণতি বিনা প্ররোচনায় জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পাঁচিলঘেরা এক ছোট্ট বাগিচায় জড়ো হওয়া এক জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য জেনারেল ডায়ার গুলি চালানোর হুকুম দিল, জনতার অপরাধ, তারা ১৮৮ ধারা ভেঙে বেআইনি সমাবেশ ঘটিয়েছে— সে সমাবেশ রাজনৈতিক হোক বা না হোক। দশ থেকে কুড়ি হাজার লোকের জমায়েতে দশ মিনিটে ১৬৫০ রাউন্ড বুলেটে সরকারি হিসেবে ৩৭৯ জন নিহত (এই সংখ্যা নিয়ে যদিও মতভেদ আছে)। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সেনা জেনারেল রেজিনাড ডায়ার পদ খুইয়েছিল ১৯২০-র জুলাইয়ে।
ব্রিটিশ শাসিত ভারতের এই ভয়ঙ্করতম অধ্যায়ের জন্য ব্রিটিশ সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত সফরে এসে আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবিও জানিয়েছেন, ক্ষমা ও সমন্বয়ের এই বার্তা তাঁরই মাধ্যমে ইংল্যান্ডের আনাচ কানাচেও ছড়িয়ে পড়বে।