
শেষ আপডেট: 6 May 2023 06:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যা ছিল আমার সবই তোমায় দিলাম……’।
প্রেম তো এমনই হয়! নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাই করেছিলেন। যাঁকে নিয়ে বাই বাই ব্যাঙ্কক করেছিলেন, তাঁর নামে নির্দ্বিধায় লিখে দিয়েছিলেন জমি, বাড়ি, গাড়ি।
২০১৭ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী বিয়োগ হয়। তাঁর মেয়েও বাইরে থাকেন। প্রয়াত স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত একটা স্কুল গড়েছিলেন পার্থ। যার বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সে ছিলেন তাঁর জামাই। এ বাদ দিয়ে এখনও পর্যন্ত তদন্তে যা জানা গিয়েছে, পার্থবাবু যা করেছিলেন সব বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) নামে। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিটে যে দাবি করেছে ইডি তা দেখে অনেকেই বলছেন, অনুব্রতর বোধহয় কোনও অর্পিতা ছিল না।
চার্জশিটে ইডি লিখেছে, গরু পাচারের টাকায় এখনও পর্যন্ত অনুব্রতর (Anubrata Mondal) ৭৭ কোটি টাকার সম্পত্তির (wealth) হিসাব পাওয়া গিয়েছে। আরও বেরোতে পারে বলে ইঙ্গিত রয়েছে চার্জশিটে। এরমধ্যে পাঁচ কোটি টাকার সম্পত্তি অন্যদের নামে। বাকি সবটাই হয় অনুব্রত, নয় তাঁর মেয়ে সুকন্যা অথবা প্রয়াত স্ত্রী ছবি মণ্ডলের নামে (family)।
পার্থবাবুর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁর বান্ধবী অর্পিতার টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে টাকার পাহাড় মিলছে না তা নয়। অর্পিতার নামে বহু সম্পত্তি এমন মিলেছে যা দেখে ইডি দাবি করেছে সব হয়েছে পার্থর টাকায়। কসবার ইচ্ছে বাড়ি, বড় বড় অঙ্কের এলআইসির একাধিক পলিসি , নেইল আর্টসের পার্লার—এই সবই ছিল অর্পিতার নামে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, অর্পিতার এমন কোনও আর্থিক উপার্জন ছিল না যা দিয়ে তিনি এত কিছু করতে পারেন। তাহলে হল কী করে? তদন্তকারীরা বলেছেন, পার্থই অর্পিতার কাছে অর্থ হয়ে উঠেছিলেন।
এদিকে অনুব্রত মণ্ডল নিজের পরিবারের বাইরে যাননি। বলা যেতে পারে পারফেক্ট ফ্যামিলি ম্যান—আমি ও আমার পরিবার, আমার মেয়ে ও বউ। ব্যাস। ওখানেই পূর্ণচ্ছেদ। রাইস মিল, জমিজমা কেনা, নগদ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকানো এসবই ঘরের লোকের মধ্যে রেখেছিলেন। অনেকের মতে, সেকারণেই হয়তো বাবা-মেয়েকে একসঙ্গে জেল খাটতে হচ্ছে।
অনুব্রতর মতো পরিবারকে জড়িয়ে অপরাধের টাকা জড়ো করার বিষয় দেখা গিয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে। স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো থেকে শুরু করে বিএড কলেজগুলি থেকে টাকা তুলতে ছেলেকে নামানো—সেসব অভিযোগেই ভট্টাচার্য পরিবারের তিনজনই আপাতত জেলে।
এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘মজার কথা হল, অনুব্রত এই কাজ করেছেন তা দুনিয়া জানত। শুধু মুখ্যমন্ত্রী জানতেন না।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন বলেন, ‘শুধু একটা মণ্ডল পরিবার দেখলে হবে না। তৃণমূল চলে ৭৫:২৫ আনুপাতিক হারে। ২৫ শতাংশে যদি মণ্ডল পরিবারের এত সম্পত্তি হয় তাহলে ৭৫ শতাংশে বাঁড়ুজ্জে পরিবারের কত সেটাই বের করতে হবে ইডি-সিবিআইকে।’
অনুব্রত বেনামীদের ভরসা করতে পারেননি, অপরাধের ৭৭ কোটি ঢুকিয়েছেন নিজের অ্যাকাউন্টেই