দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরে আবারও ধরা পড়ল ভুয়ো সরকারি 'অফিসার'! নীলবাতির গাড়ি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ সনাতন রায় চৌধুরী নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গড়িয়াহাটের ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করতে এসেছিলেন তিনি। তালতলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরে কী কী করে বেরিয়েছেন সনাতন, তিনি দেবাঞ্জনের মতো প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

দেবাঞ্জন-কাণ্ডের পর থেকেই কলকাতায় নীলবাতি লাগানো গাড়ির ওপর নজরদারি বেড়েছে পুলিশের। রাস্তায় চলছে ব়্যান্ডম চেকিংও। নীল বাতি লাগানো গাড়ি দেখলেই তা থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্দেহ হলে পুলিশ পদক্ষেপও করছে। এভাবেই সনাতনের গাড়িও থামানো হয়। প্রথমে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখতে চাইলেই চাপের মুখে পড়ে ঘাবড়ে যান তিনি। তাঁর কথায় সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। গাড়ির সামনে লাগানো ছিল সিবিআই লেখা স্টিকার।

জানা গেছে, বরানগরের বাসিন্দা সনাতন পেশায় আইনজীবী। তবে তিনি কোর্টে রাজ্য সরকারের স্ট্যান্ডিং পরিষদের সদস্য এবং সিবিআইয়ের বিশেষ কৌঁসুলি বলে নিজের পরিচয় দিয়ে একাধিক জায়গায় প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর বাড়ির সামনেই রাখতেন নীল বাতির গাড়ি। তবে পুলিশ কড়াকড়ি শুরু করার পরে গাড়িটি নিয়ে বিশেষ বেরোতেন না। তবে শেষরক্ষা হল না। একদিন বেরোতেই পড়লেন পুলিশের জালে।

প্রসঙ্গত, দেবাঞ্জন-কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এরকম ভুয়ো সরকারি আধিকারিকদের গ্রেফতার করতে থাকে পুলিশ। গত মাসের শেষেই থিয়েটার রোড এলাকা থেকে অভিযুক্ত আসিফুলকে গ্রেফতার করে বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ। আসিফুলের গাড়িতেও লাগানো ছিল নীল বাতি এবং ভিআইপি স্টিকার। কালো কাচে ঢাকা ছিল জানলাগুলি।

থিয়েটার রোডে নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ে গাড়িটি। ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ গাড়ি আটকে প্রশ্ন করলে, গাড়িতে সওয়ার 'সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স অফিসার' আসিফুলের বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় সন্দেহ হয় পুলিশের। তার পরেই তাকে জিজ্ঞাসাদ করে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত আসিফুল দেবাঞ্জনের মতোই কোনও বড় প্রতারণাচক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এবার তদন্ত শুরু হয়েছে সনাতনকে নিয়েও। একের পর এক এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমন আরও কত ভুয়ো লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে! রাস্তাঘাটে যত নীলবাতি জ্বালানো সরকারি গাড়ি দেখা যায়, সেগুলো সব আদৌ সত্যিকারের অফিসারদের গাড়ি তো!