
শেষ আপডেট: 2 February 2023 03:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: বাবা মারা যাওয়ার পর এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল মা। এটাই মেনে নিতে পারেননি সেই মহিলার ১৮ বছরের মেয়ে (girl)। বাড়িতে শুরু করেছিলেন অশান্তি। অভিযোগ, এরপরই প্রেমের রাস্তা থেকে কাঁটা সরিয়ে ফেলতে মেয়েটিকে খুনের (murder) ছক কষে তার মায়ের প্রেমিক। পরিকল্পনা মাফিক সর্ষে খেতে নিয়ে গিয়ে খুনও করে ফেলা হয়। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার চাকদহের (Chakdaha) বিষ্ণুপুর খামারপাড়া এলাকায়।
সূত্রের খবর, বুধবার ওই এলাকারই একটি চাষজমি থেকে মেয়েটির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতার নাম লিপিকা মণ্ডল (১৮)। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, মেয়েটির মায়ের প্রেমিক সুজিত বিশ্বাসই এই খুনের মূল হোতা। সর্ষে খেতে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে।
জানা গেছে, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই সুজিতের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা ছিল ওই মহিলার। কিন্তু তাতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেয়ে লিপিকা বিশ্বাস। এই নিয়েই সংসারে বিভিন্ন সময় অশান্তি শুরু হয়ে যেত মা-মেয়ের। এরপরই তাঁকে খুনের ছক কষে মহিলা ও তার প্রেমিক। সেই মোতাবেক বুধবার সকাল দশটা নাগাদ গ্রামেরই এক সর্ষে খেতে মেয়েকে নিয়ে যায় তাঁর মা। ওখানেই অপেক্ষা করছিল অভিযুক্ত যুবক সুজিত বিশ্বাস।
লিপিকাকে তাঁর মায়ের সঙ্গে আসতে দেখেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুজিত। একের পর এক কোপ বসায় মেয়েটির শরীরে। তারপর ওখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় মহিলা ও তার প্রেমিক। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে গিয়ে লিপিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে চাকদহ থানার পুলিশ এসে সেই দেহ উদ্ধার করে চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই চিকিৎসকরা লিপিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় প্রতিবেশীরা শুরুতেই অভিযোগের আঙুল তোলেন লিপিকার মা ও তার প্রেমিক সুজিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এদিকে খুনের পর থেকেই পলাতক দু'জন। এতেই সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাকদহ থানার পুলিশ।