
শেষ আপডেট: 11 July 2019 18:30
পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের ঘেরাও করে রেখে দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ। ইছামতি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সদস্যেরা জানিয়েছেন, চারদিকে সবুজায়ন নিয়ে প্রচার চলছে। গাছ লাগানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে নির্বিচারে গাছ কেটে চলেছেন খোদ পূর্ত দফতরের কর্মীরাই। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। বিজ্ঞান কেন্দ্রের সদস্যদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, ‘‘গাছের ডাল কতটা কাটতে হবে, তার নির্দেশ দিয়েছিল পূর্ত দফতর। ঠিকাদার ইব্রাহিম গাজীর কাছ থেকে সেই নির্দেশিকা নিয়ে আমরা দেখি, তাতে লেখা ছিল শুধুমাত্র নুয়ে পড়া বড় ডাল কাটতে হবে। অথচ সেগুলো ছেড়ে রাস্তার ধারের বড় গাছ কাটতে শুরু করেছিলেন ঠিকাদাররা। তাই আমরা আপত্তি তুলেছি।’’
পূর্ত দফতরের মহকুমার আধিকারিক রাজেন্দ্র প্রসাদ মণ্ডল বলেন, ‘‘বসিরহাট থেকে হাসনাবাদ পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে থাকা যে সব গাছের ডাল রাস্তার উপরে এসে পড়েছে, সেগুলো কাটার জন্য ৬,৪৫০ টাকার টেন্ডার হয়েছে।’’ তিনি জানান, টেন্ডারে বলা হয়েছে, বড় গাছের ডাল নিয়ে দফতরে পাঠাতে হবে। আধিকারিকের মুখে এই কথা শুনে, বিক্ষোভ আরও বাড়ে। রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়, আনার হোসেন মণ্ডল, রশিদুল বারি, বুলু মণ্ডলরা বলেন, ‘‘যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পরিবেশ রক্ষায় গাছ কাটার বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন, সেখানে কী ভাবে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের নামে বড় গাছ এ ভাবে মুড়িয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে।’’
ইছামতি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সভাপতি পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গাছ ছাঁটাইয়ের নামে তো গাছ উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। লাখ লাখ টাকার গাছ কাটতে সামান্য কয়েক হাজার টাকার টেন্ডার ডাকা হয়েছে। গাছ কাটার এই টেন্ডার-দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত না হলে, আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবো।’’