দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাতেই জানা গেছিল যে, ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে প্রস্তাবিত জনসভা বাতিল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে যখন ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হচ্ছে, তখন সোমবার দুপুরে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানালেন, ওই সভার মূল সংগঠক ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের দলের বহুদিনের নেতা ও বিধায়ক অখিল গিরি। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে বাদ দিয়ে নন্দীগ্রামে সভা করা সম্ভব নয়। তাই ৭ জানুয়ারির কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
সুব্রতবাবু আরও জানান, এর মানে এই নয় যে নন্দীগ্রামে তৃণমূলনেত্রীর সভা আর হবে না। তা পরে কোনও একদিন হবে।
রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি জেলায় অধিকারীদের বিরুদ্ধ শিবিরের নেতা বলেই পরিচিত। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, গত দেড় দশকে অখিল গিরির জেলা বা রাজ্য রাজনীতিতে যে খুব গুরুত্ব বা ওজন ছিল তা নয়। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পর তাঁর উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে তৃণমূলকে। এ ছাড়া নন্দীগ্রামে শাসক দলের মধ্যে গুরুত্ব ফিরে পেতে শুরু করেছেন শেখ সুফিয়ান। এক সময়ে যাঁর প্রাসাদ প্রমাণ বাড়ি থেকে দলনেত্রী অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলে খবর।
নন্দীগ্রামের সভা আপাতত বাতিল হওয়ার পর নানারকম জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অনেকের মনে করছিলেন, শুভেন্দু দল ছাড়ার পর হয়তো হুজুগের মাথায় দিদির সভা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন হয়তো ভেবে দেখা হচ্ছে যে এতে শুভেন্দুকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। আবার কারও কারও মতে, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর তুল্যমূল্য জমায়েত করার সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই দলের অন্য কারও। ভিড় করতে গেলে অন্য জেলা থেকেও লোক নিয়ে যেতে হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতেই বিভ্রান্তি কাটাতে এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে সুব্রতবাবু বিষয়টি স্পষ্ট করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।