দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে প্রথম দিনেই আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠতি ওই বৈঠকে তীব্র ভাষায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কাছে তিন জেলার বহু মানুষের তরফে এমন সব অভিযোগ জমা হয়েছে, যা নিয়ে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়েছিলেন মমতা। এ বার সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে চোখ কপালে উঠল পুলিশের।
মনে করা হচ্ছে, ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করেই এই সমস্ত অভিযোগ করেছেন তিন জেলার সাধারণ মানুষ। এমন সব অভিযোগ জমা পড়েছিল, তা প্রকাশ্যে বলতেও চাননি মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বলেছিলেন ‘ইশারাই কাফি হ্যায়।’ ডিজিকে দেখতে বলেছিলেন যাতে কেস ধরে ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, শাসক দলের নেতানেত্রীদের কাটমানি নেওয়া যেমন অভিযোগের তালিকায় রয়েছে, তেমনই বেশ কয়েকটি বেসরকারি পিটিটিআই কলেজে ভর্তি দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। শুধু কোচবিহার জেলাতেই প্রায় ৮০ টির বেশি অভিযোগ রয়েছে এই কাটমানি নিয়ে। ২০১8 থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনজেলার বেশকিছু বেসরকারি পিটিটিআই কলেজের বিরুদ্ধে ভর্তির জন্যে ব্যাপক হারে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ২ বছরে ৯৬ হাজার নেওয়ার কথা সেখানে কলেজে ভর্তি বাবদ বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকাও নেওয়া হয়েছে।
দিনহাটার গোবরাছড়ার এক ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, ছেলের চাকরির জন্য তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতাকে দু’লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। ছেলের চাকরির জন্য। তিনি দিদিকে বলেন, চাকরি তো পাওয়াই যায়নি। ফেরত পাওয়া যায়নি টাকাও। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার নাম করেও কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ৩৪ লক্ষের বেশি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। এক প্রভাবশালী শাকসকদলের নেতা এই টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়। হোম গার্ডে চাকরি দেবার নাম করে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। জেলা পরিষদের এক সদস্যার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে কোচবিহারে। জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তির বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের জন্যে টাকা নিয়েছিলেন জেলাপরিষদের ওই সদস্যা। টাকা নিলেও কাজ না হওয়ায় শেষে "দিদি কে বলো"তে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি। এসব অভিযোগ ছাড়াও প্রাথমিকে চাকরি ও বদলি করিয়ে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তালিকায়। কোচবিহার শহরের এক যুবনেতার বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচার নামে কয়েক লক্ষ টাকা হাফিস করার অভিযোগ নতুন করে জমা হয়েছে বলেও খবর। কোচবিহারের মতো এতটা না হলেও অনেক অভিযোগ আছে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতেও । এখানেও বেশ কয়েকজন নেতার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ২৪৭ টি অভিযোগের বিষয়ে কোচবিহারের এক শীর্ষ পুলিশকর্তা বিশদে কিছু না বললেও তদন্তের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ২৪৭টির মধ্যে অর্ধেকের বেশি অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আধিকারিকরা কাজ সেরে ফেলেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব তথ্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই ছবি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতেও।
যা দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, এই সমস্ত অভিযোগের সিংহভাগেই জুড়ে রয়েছে শাসক দলের নেতাদের নাম। সেই জায়গায় পুলিশ কতটা খোলা হাতে ব্যবস্থা নিতে পারবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যদিও, প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ছিল, দল, রঙ না দেখেই ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।
পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…