
শেষ আপডেট: 26 May 2023 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার শালবনীতে নবজোয়ারের সভায় যোগ দেওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে শুক্রবার সন্ধেয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের উপর লাঠি, বাঁশ, ইট নিয়ে হামলা করল কুড়মি আন্দোলনকারীদের একাংশ (Abhishek Banerjee convoy attack kurmi)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ইট মারা বললেও কম হবে, কার্যত ইট বৃষ্টি হয়েছে এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে মারা হয়েছে লাঠি দিয়ে। ওই ঘটনায় তৃণমূল কর্মীরা তো বটেই আহত হয়েছেন স্থানীয় থানার আইসি সহ বেশ কিছু পুলিশ।
এদিন বিকেলে দহিচুর বাজারে সভা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ওই সভা সেরে শালবনীর দিকে এগোচ্ছিল তাঁর কনভয় ও তৃণমূলের গাড়ির মিছিল। গড় শালবনী এলাকায় অভিষেকের গাড়ি বেরিয়ে যেতেই পিছনে থাকা তৃণমূল নেতা কর্মীদের গাড়িতে হামলা চালায় কুর্মি আন্দোলনকারীদের একাংশ।
সেখানে তখন গাড়ির মধ্যে ছিলেন রাজ্যের আর এক মন্ত্রী তথা ঝাড়গ্রামের বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদা। তাঁর গাড়িতেও ইট মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। বেশ কিছু গাড়িতে আধলা ইট মেরে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ও জানালার কাচ ভাঙা হয়েছে। শুধু তা নয়, তৃণমূলের যে সমর্থক ও কর্মীরা বাইকে করে যাচ্ছিলেন, তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন পুলিশকর্মীরাও।
এ ঘটনার পর মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, “যে ঘটনা হয়েছে তা জাতিগত আন্দোলন নয়। এটা নোংরা রাজনীতি”। বীরবাহার কথায়, 'জাতিগত আন্দোলন আমরাও করেছি। কিন্তু বৃহত্তর কুড়মি সমাজ এই নোংরামির পক্ষে নয়। বরং তাঁরা বলছেন, বাইরে থেকে লোক এনে এই অসভ্যতা করা হয়েছে।'
কুড়মি আন্দোলন (Kurmi Protest) গত মাসাবধি চলছে। এরই মধ্যে কুড়মিদের সম্পর্কে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার সভায় অভিষেক সেই প্রসঙ্গও তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, তিনি কুড়মি আন্দোলনকারীদের পোশাক ছিঁড়ে দেবেন। আমাদের এক নেতা যখন পশ্চিম মেদিনীপুরে কুড়মি সমাজ সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী কি একটি সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন?”
কিন্তু দেখা গেল, তার পরেও শুক্রবার হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে গেল ঝাড়গ্রামে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও পুলিশি নিরাপত্তা পান। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ঢুকে কীভাবে মন্ত্রীর গাড়ি ভাঙার সাহস পেলেন আন্দোলনকারীরা সেও প্রশ্ন বটে। আরও উদ্বেগজনক হল, শনিবার সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করতে যাওয়ার কথা।
তৃণমূলের অভিযোগ, কুড়মিদের নাম দিয়ে এ ঘটনার পিছনে আসলে কলকাঠি নেড়েছে বিজেপির একাংশ। পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করছে।
এদিন দিলীপ ঘোষ বললেন, “আমার বাড়ি ঘিরেছিল তখন ভাল লেগেছিল? অভিষেক বলছেন লাইন দিয়ে নোট বদল নয় সরকার বদল করবেন। ওনারা প্রতারণা করেছেন। যখন কুড়মিরা আন্দোলনে বসেছিলেন তখন কেউ যাননি। আন্দোলনকে প্রশমিত করার বদলে ওনারা উস্কে দিচ্ছেন।”