দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল থেকে জ্বর নিয়ে ফেরা এক প্রৌঢ়কে গ্রামে ঢুকতেই দিলেন না বাসিন্দারা! উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি এলাকার পানবাড়ি গ্রামের এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা একরকম বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, করোনাভাইরাস নিয়ে তুমুল আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে গোটা ময়নাগুড়ি। ছড়িয়ে পড়ছে নানারকম গুজব ও ভ্রান্ত ধারণা। এ সব নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে ও সচেতনতা প্রচারে আগামী কাল, সোমবার পানবাড়ি গ্রামে যাবেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।
জানা গেছে, ময়নাগুড়ি পানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের তাপসকুমার পাল পেশায় নির্মাণকর্মী। গত কয়েক মাস ধরে তিনি কেরলে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি হঠাৎ বাড়িতে ফোন করে জানান, তাঁর জ্বর এসেছে। পরিস্থিতি ভাল নয় বুঝে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে কেরলে যান তাঁর ছেলে। ট্রেনে করে ফিরিয়ে আনেন বাবাকে।
কিন্তু ইতিমধ্যে তাপসবাবু জ্বর গায়ে ট্রেনে চেপে বাড়ি ফিরে আসছেন এই খবর চাউর হতেই তাঁকে গ্রামে ঢুকতে না দেওয়ার পরিকল্পনা করেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, তিনি এসে পৌঁছলে তাঁকে বাধা দেন তাঁরা। এর পরেই হা,পাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাপসবাবুকে।
অন্যদিকে হাসপাতালে তাপসবাবু পৌঁছতে, সেখানেও করোনা-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন খবর যায় ময়নাগুড়ি থানায়। পাছে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাই আগে থেকেই হাসপাতালে প্রচুর পুলিশ মোতায়ন করে ময়নাগুড়ি থানা।
তাপসকুমার পাল জানান, তাঁর কয়েক দিন ধরেই জ্বর হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত কিনা তা জানেন না তিনি। অন্য কোনও লক্ষণও নেই শরীরে। তাপসের ছেলে প্রশান্তকুমার পাল বলেন, "বাবাকে নিয়ে আজ ফিরলাম। আমার মনে হয় না বাবা করোনায় আক্রান্ত। আমরা চাই বাবার চিকিৎসা হোক।"
এই ঘটনার খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার প্রামাণিক বলেন, "আমি শুনলাম ওঁকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এটা ঠিক নয়। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে উনি করোনায় আক্রান্ত নয়। তবুও আমরা ওঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখার ব্যবস্থা করেছি। চিকিৎসা হবে সেখানেই। তবে জ্বর হলেই এত ভয়ের কিছু নেই। মানুষের মধ্যে বাসা বাঁধা নানারকম ভ্রান্ত ধারণা কাটাতে আগামী কাল আমি পানবাড়ি গ্রামে গিয়ে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার চালাব।"