
শেষ আপডেট: 13 November 2022 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সামান্য কল নিয়ে প্রায় রোজদিনই ঝগড়া চলত দু'পক্ষের। শনিবার বিকেলে সেই বিবাদ থেকেই বড়সড় হাতাহাতির অভিযোগ উঠল। এমনকি এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার (pregnant lady) পেটে লাথি মারারও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক তৃণমূল (TMC) কর্মী। ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা আবার এলাকারই বিজেপি (BJP) বুথ সভাপতির মেয়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি রাজনৈতিক দিকে মোড় নিয়েছে। হুগলির (Hooghly) বাঁশবেড়িয়ায় শনিবার এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি বুথ সভাপতি জগন্নাথ দাস। তাঁর বাড়ির সামনে লাগানো পুরসভার একটি কল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী তৃণমূল কর্মী রাখাল দাসের সঙ্গে বিবাদ চলছে। অভিযোগ, শনিবার বিকেলে হঠাৎই জগন্নাথবাবুর স্ত্রীর গায়ে সেই কল থেকেই জল ছিটিয়ে দেন রাখাল দাস। সেখান থেকেই কালকের ঝগড়ার সূত্রপাত।
স্ত্রীর গায়ে জল ছেটানোয় স্বভাবতই রেগে যান জগন্নাথবাবু। সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ জানান তিনি। অভিযোগ, এরপরই হঠাৎ রাখাল দাস দলবল নিয়ে চড়াও হয় বিজেপি বুথ সভাপতির বাড়িতে। ঘটনার প্রেক্ষিতে জগন্নাথ দাস জানান, 'ওরা বাড়িতে ঢুকে সবাই মিলে আমাকে মারধর শুরু করে। আমার বাবা ও মেয়ের উপরেও হামলা করে। বাবাকে ধাক্কা মেরে ড্রেনে ফেলে দেয়। ওঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। আমার সাড়ে পাঁচ মাসের গর্ভবতী মেয়েও বাড়িতে ছিল। তাঁর পেটেও লাথি মেরেছে। বিজেপি করি বলেই এখন আমার সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঝগড়া-মারামারি করতে চায়।'
এই প্রসঙ্গে বাঁশবেড়িয়ার বিজেপি মণ্ডল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, 'শুনেছি ওই কল নিয়ে দু'জনের দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ। শনিবার বিকেলে ঝামেলার সময় তো ওই তৃণমূল কর্মী গিয়ে বুথ সভাপতিকে মারধর করে। তাঁর মেয়ের পেটে লাথি মেরেছে। শুনলাম ওঁর মেয়ে গর্ভবতী। এরা সমস্ত অপরাধের সীমা পার করে গিয়েছে। এভাবে মহিলাদের উপর অত্যাচার ভাবা যায় না। শুনলাম পুলিশ নাকি ব্যবস্থা নিয়েছে। দেখা যাক কী শাস্তি হয়!
এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মিনতি ধর বলেন, 'সামান্য কলতলার ঝগড়া থেকে যেই ঘটনাটি ঘটল, তা একেবারেই সমর্থন করছি না। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা অবশ্যই নেবে।' সূত্রের খবর, বাঁশবেড়িয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে মগড়া থানার পুলিশ। ধৃতরা হল রাখাল দাস ও তার স্ত্রী অনিতা দাস এবং তাদের দুই ছেলে শুভ ও দীপ দাস। ধৃতদের রবিবার চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হবে। অন্যদিকে, বিজেপি বুথ সভাপতির বৃদ্ধ বাবা বা অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে মারধরের পরেই আহত অবস্থায় চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন দু'জন।
কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে আগুনে পুড়ে ছাই গাড়ি, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীদের