
শেষ আপডেট: 24 January 2024 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: টাকা কম থাকায় বিরিয়ানির অর্ডার ক্যানসেল করেছিল ১০ বছরের ছেলে। এটাই ছিল তার অপরাধ। অভিযোগ, এই অপরাধেই নাবালককে ধরে বেধড়ক মারধর করল বিরিয়ানির দোকানের কর্মচারিরা। মারাত্মক জখম হয় ওই নাবালক। তার দাঁত ভেঙে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধেয় জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা মোড় এলাকায় এক রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানির অর্ডার দেয় ওই নাবালক। অর্ডার দেওয়ার পরে সে বুঝতে পারে, তার কাছে টাকা কম রয়েছে। তাই দোকান কর্মীরা বিরিয়ানি নিয়ে আসলেও, সে খেতে অস্বীকার করে। দোকান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এতে রেগে যায় দোকানের কর্মীরা। তার পিছু ধাওয়া করে। তাকে ধরে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করে দাঁত ভেঙে দেয়।
নাবালকের চিৎকার শুনে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে। শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও স্থানীয় এক মহিলা সমাজকর্মী। শিশুটিকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। দোকানের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোহিত মৈত্র নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, '' আমি মন্দিরের সামনে দিয়ে আসছিলাম। দেখি বাচ্চাটিকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করছে কয়েকজন। আমরা সকলে মিলে তাদের আটকাই। জানতে পারি বাচ্চাটি বিরিয়ানির অর্ডার ক্যানসেল করায় তাকে এভাবে মারা হচ্ছে। অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।''
জলপাইগুড়ি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সম্পাদিকা মধুমিতা দাস। তিনি বলেন, ''শিশুটির পরিবারে তেমন কেউ নেই। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তার বাড়ি। মাঝেমধ্যেই এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। আমরা তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। তার ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।''
দোকান মালিক বিজন চন্দ বলেন এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন না। অল্প সময়ের জন্য তিনি দোকানের বাইরে গিয়েছিলেন। এরমধ্যে তার দোকানের কর্মীরা দোকানের বাইরে গিয়ে খুব বাজে ঘটনা ঘটাল। লজ্জায় তাঁর মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর কর্মীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ আধিকারিক শ্যামল রায় বলেন, "খবর পেয়ে আমি এসে দেখি বাচ্চাটি দোকানে বসে আছে। দেখি তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর বাচ্চাটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দোকানের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।"