
শেষ আপডেট: 16 November 2023 22:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজোর মেলায় মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল ধূপগুড়ির সরস্বতী রায়ের। সেইমতো মেয়েকে তৈরি করে নিজেও সাজগোজ করছিলেন তিনি। আচমকা ঘরে ঢুকে এসে বৌদির গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ মারল তাঁর দেওর। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন যুবতী!
ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ভোটপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর পাঁচেক আগেই আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা সরস্বতীর বিয়ে হয় ধূপগুড়ির নিখিল রায়ের। মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল সরস্বতীদেবীর। কিন্তু বছর দু'য়েক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নিখিল। সেই থেকেই মেয়েকে নিয়ে ধূপগুড়িতেই মায়ের সঙ্গে থাকতেন সরস্বতী। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিখিলের ভাইয়ের সঙ্গে ঝামেলা লেগেই ছিল সরস্বতীর, দাবি প্রতিবেশীদের।
স্থানীয়দের কথায়, মাঝেমধ্যেই নিখিলের ভাই সুনীল রায়, সরস্বতীদেবীর বাড়িতে চড়াও হত। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৌদির সঙ্গে অশান্তি করত সে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেমন ঘটনাই ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এক প্রতিবেশী জানান, সন্ধ্যাবেলা সরস্বতী আচমকাই তাঁদের উঠোনের ওপর এসে পড়েন। তাঁর গলায় ছিল গভীর ক্ষতের দাগ। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল আশপাশ। এমন অবস্থায় সরস্বতীকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ধূপগুড়ি গ্ৰামীণ হাসপাতালে। কিন্তু শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে জলপাইগুড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে সরস্বতীর। চিকিৎসকদের কথায়, তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা চলছে। তবে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত সুনীল। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে যায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। আইসি সুজয় তুঙ্গা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। এলাকাবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সেইসঙ্গে পলাতক সুনীলের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।