দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার সেই শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে এদিন তাঁর পথে হেঁটেছেন বাংলার চার জেলার চারটি আসনের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীরা। সবারই এক অভিযোগ—গণনায় কারচুপি হয়েছে।
হাইকোর্ট এই মামলা গ্রহণ করেছে। আগামী ১৫ জুলাই এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন কোন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীরা কারচুপির অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন?
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার তৃণমূল প্রার্থী সংগ্রাম কুমার দলুই, পুরুলিয়ার বলরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতো, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণের রানি সরকার এবং হুগলির গোঘাটের মানস মজুমদার। তাঁদের পরাজয়ের ব্যবধান বেশ কম। তাই তাঁরা আদালতে স্বচ্ছ গণনার আর্জি জানিয়েছেন।
শান্তিরাম মাহাতো পরাজিত হয়েছিলেন ৪২৩ ভোটে, ময়নায় সংগ্রাম দলুই বিজেপির ক্রিকেটার প্রার্থী অশোক দিন্ডার কাছে হেরেছেন ১২৬০ ভোটে। গোঘাটে একদা ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক এবার বিজেপির টিকিটে লড়া বিশ্বনাথ কারকের কাছে মানস হেরেছেন ৪১৪৭ ভোটে। বনগাঁ দক্ষিণে বিজেপির স্বপন মজুমদারের কাছে তৃণমূলের রানি সরকার হেরেছেন ২০০৪ ভোটে।
বাংলায় এমন অনেক কেন্দ্র রয়েছে যেখানে বিজেপিও সুতোর ব্যবধানে হেরেছে। বিজেপির নির্বাচনী পর্যালোচনাতেও এই আসনগুলি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। একের পর এক পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর মামলা নিয়ে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনও কেন্দ্রের গণনা নিয়ে মামলা না করে ভোট হওয়া ২৯২টি কেন্দ্রেই ফের গণনা হোক।
ভোটের ফল ঘোষণার সন্ধেবেলাই কালীঘাটের বাড়ির উঠোনে সাংবাদিক বৈঠক করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, নন্দীগ্রামের গণনায় কারচুপি হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে যাব। তখন যদিও অন্য আসনের ফলাফলের প্রসঙ্গ তৃণমূল তোলেনি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, নতুন চারটি মামলা সুচিন্তিত পদক্ষেপ হতে পারে। ধরে নেওয়া যেতে পারে এই পাঁচটি মামলার উদ্দেশ্য ও বিধেয় যেহেতু এক তাই এগুলির শুনানিও একই সঙ্গে হবে। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটি যাতে বিচ্ছিন্ন ভাবে না দেখা হয়, সেই কারণেই সম্ভবত কৌশলগত ভাবে এই চার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল। জন প্রতিনিধি আইন অনুযায়ী এই ধরনের মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর আদালতে উপস্থিত থাকার কথা। বিচারপতিও সেই কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুনানির সময় উপস্থিত থাকবেন পারবেন কি না তা মমতার আইনজীবীর কাছে জানতে চান বিচারপতি কৌশিক চন্দ। জবাবে মমতার আইনজীবী জানান, যা নিয়ম আছে তা মানা হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচটি আবেদন একসঙ্গে জুড়ে শুনানি হলে তা প্রকারান্তরে একটি মামলা হিসাবেই দেখা হতে পারে। অর্থাৎ শুনানির সময়ে আবেদনকারীদের মধ্যে কোনও একজন উপস্থিত থাকলেই হয়তো চলবে।