দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পর পর দু’টি শিশুর মৃত্যু। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কাবু করে ফেলেছিল তাকে। বাকিদের বুকে আগলে বাঁচিয়ে রাখাই তখন তার একমাত্র উদ্দেশ্য। তাই প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশিই হিংস্র হয়ে উঠেছিল মা। একটি পথ কুকুর।
তার ছানাদের আশপাশে অনাবশ্যক ঘোরাঘুরি দেখলেই তারস্বরে ঘেউ ঘেউ। কখনও লাফিয়ে উঠে কামড়ে দেওয়ার চেষ্টা। তার দৌরাত্ম্যে অস্থির হয়ে উঠেছিল এলাকার বাসিন্দারা। তাই ফন্দি আঁটা হয়েছিল কুকুরটিকে মেরে ফেলার। খবর পেয়ে স্থানীয়দের এই অভিসন্ধিতে জল ঢেলে দেয় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। ছানা-সহ মা কুকুরটিকে নিরাপদে আশ্রয় দেয় থানার পাশেই।
পথ কুকুরদের নিরাপত্তা নিয়ে আগেও একাধিক বার অভিযোগ তুলেছিল বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন। কখনও বিষ খাইয়ে কুকুর হত্যা, আবার কখনও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মেরে কুকুর খুনের ঘটনা প্রায়ই খবরের শিরোনামে আসে। নির্বীজকরণের জন্য অস্ত্রোপচারের পরে চিকিৎসায় গাফিলতিতেও মারা যাচ্ছে অনেক কুকুর, এমন অভিযোগও তুলেছেন পশুপ্রেমীরা। সেই নিয়ে বিস্তর আন্দোলনও হয়েছে। তবে, ধূপগুড়ির মা কুকুরটিকে বাঁচিয়ে বেশ গর্বিতই পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশের কথায়, ধূপগুড়ির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কুকুরটি সাতটি শাবকের জন্ম দেয়। জন্মের পরই মারা যায় দুটি ছানা। এরপর থেকে তার কাছাকাছি কোনও মানুষ দেখলেই নাকি কামড়ে দিতে যাচ্ছিল কুকুরটি। দৌরাত্ম্য কমাতে তাকে পিটিয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিল এলাকারই কিছু মানুষ। সেই খবর যায় ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুনমুন বসুর কাছে। তিনিই খবরটি জানান ধূপগুড়ি থানার আইসি সুবীর কর্মকারকে।
সুবীরবাবু জানিয়েছেন, খবর পেয়েই তিনি এলাকায় যান। তাঁরই নির্দেশে খাঁচা পেতে কুকুরটিকে ধরা হয়। খাঁচার ভিতরেই ছানা-সহ তাকে ধরে রাখা হয়। এর পরেও এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল কুকুরটির চিৎকারে তাঁদের রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে। তাই শেষে থানার মেসের পাশেই তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়। রোজ সকালে দুধ-পাঁউরুটি, দুপুর ও রাতে মাছ-মাংস সহযোগে ভাত, ছানা-সহ মায়ের খাতিরযত্ন কিছু কম করছে না পুলিশ।