দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : রাজ্যে অপশাসন ও গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগে সরব হয়েছিল বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনে একে ইস্যু করে সফলও হয়েছে। কিন্তু তারপরের ছবিটাও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিন। ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মারধরের পর এ বার তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের চোখে লঙ্কা গুড়ো দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বড়জোড়া থানার চান্দাই গ্রামে।
পখন্না পঞ্চায়েতের চান্দাই গ্রামে গতকাল সন্ধ্যায় তৃণমূল পার্টি অফিস বিজেপি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। বড়জোড়ার তৃণমূল ব্লক সভাপতি আলোক মুখার্জি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তিরিশ চল্লিশ জন বিজেপি কর্মী তাঁদের পার্টি অফিসে আক্রমণ চালায়। ভেতরে তখন আটজন তৃণমূল কর্মী ছিলেন। বাইরে থেকে পাথর ছুড়তে থাকে বিজেপির কর্মীরা। এরপরে ভেতরে এসে সব আসবাবপত্র ভেঙে দেয়। তিনি বলেন, “ভেঙে দেওয়া হয় একটি এলসিডি টিভি ফ্যানও। ভাঙচুর করা হয় আটটি মোটরবাইক ও একটি মোটর ভ্যান। তাদের আক্রমণে গুরুতর আহত হন আটজন তৃণমূল কর্মী। তাদের ছ’জনকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
খবর পেয়ে, স্থানীয় কিছু তৃণমূল কর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাঁদের হাত বেধে চোখে লঙ্কা গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তাঁরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদেরও। এরপরেই ওই দুষ্কৃতীরা চান্দাই গ্রামের ভেতরে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাথর ছুড়তে শুরু করে বলেও অভিযোগ।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে। এ সবই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, “এতগুলো রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আছে, কোথাও শুনেছেন আমাদের কর্মীরা বিরোধীদের উপর আক্রমণ হানছে ? এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। এটা তৃণমূলের সংস্কৃতি। অকারণে বিজেপির নাম জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে। অথচ বাস্তবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। মারধর করা হচ্ছে।”
চান্দাই গ্রামের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় চলছে পুলিশের টহল।