টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিলি করে পুরুলিয়ার কিরণ
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : চাষবাসের ভরসাতেই দিন কাটে পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা গ্রামগুলির অধিকাংশ বাসিন্দার। তবে সবার যে নিজের জমি আছে , এমন নয়। দিনমজুরি করেন তাঁরা। অনেকের আবার রসদ সংগ্রহের একমাত্র ভরসা জঙ্গল। জীবনযাত্রার এই মান বরাবরই দূরত্ব ত
শেষ আপডেট: 3 February 2019 07:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : চাষবাসের
ভরসাতেই দিন কাটে পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা গ্রামগুলির অধিকাংশ বাসিন্দার। তবে সবার যে নিজের জমি আছে , এমন নয়। দিনমজুরি করেন তাঁরা। অনেকের আবার রসদ সংগ্রহের একমাত্র ভরসা জঙ্গল। জীবনযাত্রার এই মান বরাবরই দূরত্ব তৈরি করেছে স্বাস্থ্য সচেতনতার ন্যূনতম ভাবনাগুলির সঙ্গে। কিরণের লড়াইটা শুরু হয়েছিল ঠিক এই জায়গা থেকেই।
মাসের বিশেষ পাঁচটা দিনের জন্য যে একটু বাড়তি সতর্কতা দরকার, তা কিরণ বাউড়ি জানতে পেরেছিল একেবারে ব্যবহারিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে। প্রথম প্রথম পিরিয়ডস হলে বাড়ির পুরনো কাপড় ব্যবহারেই অভ্যস্ত ছিল সেও। পরে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার শেখে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত হুটমুড়া গ্রামের হরিমতি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এই ছাত্রী। বুঝতে পারে পার্থক্যটা। শুধু ব্যবহারের সুবিধাই নয়, স্যানিটারি ন্যাপকিন যে স্বাস্থ্য সহায়ক বুঝতে পারে তাও। তারপরেই শুরু হয় বন্ধুদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পালা।
হুটমুড়া-জয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গেঙ্গাড়া গ্রামে বাড়ি কিরণের। বাবা সামান্য দিনমজুর। সাধ্যই বা কত। তবুও হাতে কখনও সখনও আসা সামান্য পয়সাই জমিয়ে রাখে সে। তারপর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতের তৈরি ন্যাপকিন কিনে বিলি করে তার নিজের গ্রাম ও লাগোয়া গ্রামগুলোতে। গত ৬-৭ মাস ধরে চলছে এমনটাই। ছোট্ট মেয়ে কিরণের এই উদ্যোগে এলাকার বেশিরভাগ মেয়েই এখন পিরিয়ডসের সময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন l

হুটমুড়া হরিমতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চৈতালি মুখোপাধ্যায় তাঁর এই ছাত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ l তিনি বলেন, "আমার স্কুলের ছাত্রী এ ভাবে নিজের টিফিনের পয়সা জমিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মহিলা ও ছোট মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দিয়ে সচেতন করছে, ভাবতেই গর্ব হচ্ছে খুব। সে শুধু গ্রামের মেয়েদের সচেতন করেনি, আজকের আমরাও তাকে দেখে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি l"
আর চৈতালিদেবীর প্রিয় ছাত্রীটি জানায়, সে যখন তার বন্ধুদের বা আত্মীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে বলতো, তখন অনেকেই শুধু হেসে উড়িয়ে দিত। ন্যাপকিন ব্যবহার সম্পর্কেও জানতো না, বা ন্যাপকিন কেনার ক্ষমতাও ছিল না। তার কথায়, ‘‘তাই স্কুলে আসার সময় যদি কখনও টিফিনের জন্য টাকা পেতাম, তা জমিয়ে রাখতাম। তাই দিয়েই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের হাতের তৈরি ন্যাপকিন কিনে বিলি করতে শুরু করি। এখন দেখছি অনেকেই নিজেরা কিনেও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছে। এটা দেখে সত্যিই খুব আনন্দ হচ্ছে আমার।আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মেয়েরাই এখন সচেতন l’’
তাই এখন টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে আশেপাশের এলাকার মেয়েদেরও সচেতন করার লক্ষ্য নিয়েছে গেঙ্গাড়া গ্রামের ছোট্ট মেয়ে।