
শেষ আপডেট: 29 August 2018 18:05
আগে রিক্সা চালাতেন স্বপ্নার বাবা। বছর আটেক ধরে অসুস্থ হওয়ায় আর পারেন না। চা বাগানে পাতা তুলে কোনও রকমে সংসারের চাকাটা চালু রাখেন বাসনাদেবী। দুই ছেলেও এখন রাজমিস্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে কিছু রোজগার করে। সেই নুন আনতে পান্তা ফোরানো সংসারে তাই বরাবরই কঠিন ছিল মেয়ের লড়াই। তবুও সব কিছুকে টপকে এশিয়াডে স্বপ্নার সোনা জয়। আজও গোটা পরিবার ভাসছে আনন্দে।
স্বপ্নাকে দেখেই প্রথমে প্রশ্ন জেগেছিল, তাঁর ডানগালে ওটা কী? ইভেন্ট শেষে উত্তর জানল গোটা জাকার্তা। আগের রাতে দাঁতের যন্ত্রণায় ছটফট করেছে ২১ বছরের মেয়েটা। সতীর্থরাই বুঝতে পারছিলেন না স্বপ্না পারবেন কী না। কিন্তু যে মেয়ে জীবন যুদ্ধে জিতে যাওয়ার স্পর্ধা রাখে তিনি ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে পারবেন না? পারলেন স্বপ্না। প্রথমবার কোনও ভারতীয় অ্যাথলিট হিসাবে হেপট্যাথলনে সোনা জিতলেন উত্তরবাংলার স্বপ্না।
অন্য দিন সূর্য ডুবলেই আঁধার নামে। কিন্তু বুধবার সূর্য ডুবলেও তাই আলো নেভেনি জলপাইগুড়ির পাতকাটা ঘোষপাড়ায়। ঘরের মেয়েকে সোনা ছুঁতে দেখে অকাল উৎসবে ভেসেছে গোটা এলাকা। বাসিন্দারা অধিকাংশই হতদরিদ্র। প্রতিদিনের বেঁচে থাকাটাই মস্ত লড়াই। ব্যতিক্রম নন স্বপ্না বর্মনও। তাই তাঁর এমন সাফল্যে পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুদ্ধ জয়ের তৃপ্তি ঘিরে রেখেছে গোটা পাতকাটাকে।
https://www.youtube.com/watch?v=RP9QIonKThY