দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজভ্যালি কাণ্ডে ক’দিন আগে চলচ্চিত্র প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে গ্রেফতারের পর সিবিআই জানিয়েছিল, গৌতম কুণ্ডুর চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করে তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি কিনেছিলেন তিনি। শুধু তা নয়, শিবাজি পাঁজাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়েও মুখ্যমন্ত্রী ছবি কেনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিল সিবিআই।
মঙ্গলবার কাঁথির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ছবি আঁকা নিয়েই খোঁচা দিতে চাইলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায়।
কাঁথিতে এ দিন সভা করেন সর্বভারতীয় বিজেপি-র সভাপতি অমিত শাহ। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকুলবাবু এ দিন বলেন,“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন, তিনি আঁচড় কাটলেই নাকি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। কিন্তু উনি আর আঁচড় কাটছেন না কেন? কেন বন্ধ করে দিলেন?” এখানেই না থেমে রীতিমতো কটাক্ষের সুরে মুকুলবাবু বলেন, “ছবি কেনার আর লোক পাওয়া যাচ্ছে না তাই? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, আবার আঁচড় কাটুন না! ছবি এঁকে দেখান! দেখুন কেউ কিনতে আসেন কিনা।”
মুকুলবাবু বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকে তাঁর সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু প্রকাশ্যে একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি। অনেকের মতে, দিদি হয়তো মনে করেন তাতে মুকুল রায় বাড়তি গুরুত্ব পেয়ে যাবেন। কিন্তু মুকুলবাবুর কৌশল আবার উল্টো। বাংলায় তৃণমূলের ভিত নড়িয়ে দিতে তাদের দুর্বল স্থানে আঘাত করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। তাঁর উপরে এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ যে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন তা সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপি-র ন্যাশনাল কনভেনশনের মঞ্চেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: আপনাকে ভয় দেখিয়ে আটকানো যায়নি, আপনিও পারবেন না: বিপ্লব
কাঁথির সভায় দাঁড়িয়ে এ দিন চিটফান্ড নিয়ে মমতার আরও সমালোচনা করেন মুকুলবাবু। তিনি বলেন, বিজয় মাল্য, নীরব মোদীকে নিয়ে ঘুম নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু সারদা, রোজভ্যালি, প্রয়াগে টাকা রেখে যাঁরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন, তাঁদের কথা মমতা ভুলে গেলেন কেন? তাঁদের সম্পর্কে কেন এখন তিনি কথা বলেন না?
প্রসঙ্গত, সারদা কাণ্ডে অতীতে মুকুল রায়কেও জেরার জন্য ডেকেছিল সিবিআই। এ দিন সে ব্যাপারেও মুখ খোলেন মুকুল। বলেন, আমরা তো চাইছি সারদা, রোজভ্যালি কাণ্ডে সিবিআই-তদন্ত সম্পূর্ণ হোক। যদি আমি দোষী সাব্যস্ত হই, তো আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মুকুলের প্রতিটি কথাতেই এ দিন ভিড়ের মধ্যে মুহুর্মুহু তালি পড়ে। তাতে দৃশ্যত আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন তিনি। এতটাই যে বক্তৃতার শেষে প্রায় ভবিষ্যদ্বাণীর মতোই বলেন, উনিশের ভোটে বিশটার বেশি আসন পাবে না তৃণমূল। যদি তা পায় তা হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন তিনি। সেই সঙ্গে এও বলেন, উনিশে বাংলায় কুড়িটার কাছাকাছি আসন পাবে বিজেপি। তার পর তৃণমূলের যে নেতা কর্মীরা এখন পাঁচিলে বসে সবটা দেখছেন, তাঁরা টপাটপ বিজেপি-র কোলে এসে পড়বে।
মুকুলের এ সব কথা শুনে এখনও দলীয় তরফে কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয়নি তৃণমূল। তবে দলের একাধিক মুখপাত্র বলেন, মুকুল রায়ের এ সব কথার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি যে সময়ের কথা বলছেন, তখন তৃণমূলে অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকা ছিল। ওঁর এইসব কথাবার্তা মমতার গ্রহণযোগ্যতায় কোনও আঁচড়ও ফেলতে পারবে না।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-bjp-rally-in-contai-live/