দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : মুষলধারে বৃষ্টি। তাও কাজে বের হতে হবে। তাই সকাল সকাল রান্নাঘরে ঢুকেছিলেন ডুয়ার্সের বড়দিঘী বনবস্তির বাসিন্দা জগু খেড়িয়া। ভাত রাঁধতে। কিন্তু কাঠ জ্বালাবেন কী করে? কাঠের গোছার উপরেই যে আরামের ঘুম ঘুমোচ্ছে চিতাবাঘ। আধো অন্ধকার ঘরে সেই চিতাবাঘকে শুয়ে থাকতে দেখে ছিটকে বেড়িয়ে আসেন তিনি। কোনও মতে শিকল তুলে দেন ভাঙা দরজায়।
জগু খেড়িয়ার ভয়ার্ত চিৎকারে ছুটে আসেন আশেপাশের বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। ততক্ষণে আলো ফুটেছে। বনকর্মীরা এসে প্রথমে পটকা ফাটিয়ে চিতাবাঘটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয়নি তাতে। এরপরেই খবর দেওয়া হয় বনদফতরের ঘুমপাড়ানি দলকে। তারা এসে গুলি ছুড়লে রান্নাঘরে ভাতের ফ্যান রাখা পাত্রের ওপরেই ঘুমিয়ে পড়ে চিতাবাঘটি। এরপরেই জালে মুড়িয়ে তাকে নিয়ে যায় বন দফতরের বিশেষ দল।
https://www.youtube.com/watch?v=heiGPOtqFbQ&feature=youtu.be
গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বড়দিঘী বনবস্তি। চিতাবাঘ ঢোকার খবর পেয়ে সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে লোকজন ভিড় করে তাঁর বাড়ির সামনে। একই সঙ্গে গ্রাস করে আতঙ্ক। যেখানে জগু খেড়িয়ার ঘর তার ১০ মিটারের মধ্যে এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুল। ছোটদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছিলেন অভিভাবকরা। তবে চিতাবাঘটিকে বন দফতর কব্জায় নিয়ে আসার পরেই অবশ্য স্বস্তি ফেরে গোটা এলাকায়।
জলপাইগুড়ি অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী জানান, চিতাবাঘ দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে এলাকায় প্রচুর মানুষের ভিড় করায় তাঁদের কর্মীদের কাজ করতে অসুবিধা হয়। প্রথমে পটকা ফাটিয়ে চিতাবাঘ টিকে ফেরানোর চেষ্টা করেন তাঁদের কর্মীরা। কাজ না হওয়ায় জলপাইগুড়ি থেকে ট্রাংকুলাইজ টিম গিয়ে মাঝারি মাপের পুরুষ চিতাবাঘটিকে ঘুমপাড়ানির গুলি ছুড়ে কাবু করে। তিনি বলেন, “গরুমারায় নিয়ে যাওয়া হল ওকে। সেখানে ডাক্তার দেখবে। সুস্থ থাকলে গরুমারার গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে চিতাবাঘটিকে।”